দেশে আবারো ৩১ লাখ দরিদ্র পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। মোবাইল আর্থিক সার্ভিসের মাধ্যমে ঈদুল ফিতরের আগে প্রতিটি পরিবারকে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কোভিড-১৯ মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সরকার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে এ সহায়তা প্রদান করবে।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ঈদ উপহার দেওয়ার পাশাপাশি আরও তিনটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করবেন। চলতি সপ্তাহে অতিরিক্ত নগদ সহায়তা হিসাবে ঘোষণা আসতে পারে। এ বিষয়ে গত সপ্তাহে এক ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, আর্থিক সহায়তা ও প্রণোদনা প্যাকেজের জন্য সরকার এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করবে। যার মধ্যে ৩১ লাখ পরিবারকে আর্থিক সহায়তার জন্য প্রায় ৭০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।

এর আগে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১৩ এপ্রিল জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণেও দরিদ্র-নিম্নবিত্ত মানুষদের সহায়তার বিষয়ে ঘোষণা দেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আপনাদের শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সরকার সবসময় আপনাদের পাশে রয়েছে। দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানার পর আমি দরিদ্র-নিন্মবিত্ত মানুষদের সহায়তার জন্য কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছি। আমরা এরইমধ্যে পল্লী অঞ্চলে কর্মসৃজনের জন্য ৮০৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং পবিত্র রমজান ও আসছে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ৬৭২ কোটিরও বেশি টাকা বরাদ্দ দিয়েছি। এর মাধ্যমে দেশের প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখ ৪২ হাজার নিম্নবিত্ত পরিবার উপকৃত হবেন। গত বছর করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর থেকে ভিজিএফ, টেস্ট রিলিফসহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

২০২০ সালের ১৪ মে প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবার এবং দুর্বল জনগোষ্ঠীর প্রত্যেককে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা দেন।

মোট তহবিলের মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ৩৮ লাখ ৯৭ হাজার পরিবারকে ৮৭৯ কোটি টাকা বিতরণ করেছে। আর বরাদ্দ করা বাকি ১০১ কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকে ফেরত আসে। যা এবার সামাজিক বরাদ্দ হিসাবে যোগ হতে পারে বলেও অর্থমন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে।

Sharing is caring!