হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালের মধ্য দিয়ে ১৪ মাস পর ফের হরতাল ফিরেছে দেশে। তবে এ হরতাল ঢিলেঢালাভাবে চলছে। সকাল ৯টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোথাও কোনো পিকেটিংয়ের খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে হরতাল প্রতিরোধ ও যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।

রোববার সকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, কাজলা, শনির আখড়া ঘুরে দেখা যায়, হরতালের কারণে অন্যান্য দিনের তুলনায় রাস্তায় গণপরিবহন ও লোক সমাগম অনেকটাই কম। মোড়ে মোড়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। নতুন বাজার এলাকাতেও অন্যান্য দিনের চেয়ে কম গাড়ি দেখা যাচ্ছে।

যাত্রাবাড়ী এলাকায় দায়িত্বরত সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার ইমতিয়াজ বলেন, আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি। এখন পর্যন্ত এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। কোনো মিছিল মিটিং হয়নি। প্রায় একই চিত্র পল্টন ও বায়তুল মোকাররম এলাকাতেও। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস হিসেবে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সেখানেও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।

সাত মসজিদ রোড, এলিফ্যান্ট রোড, শাহবাগ এবং প্রেসক্লাব এলাকাতে দেখা গেছে সীমিত সংখ্যক বাস চলছে। প্রতিটি রাস্তার মোড়ে মোড়ে লাঠি হাতে পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। যাত্রীদের বাসের জন্য খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে না হলেও বাসে উঠতে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।

পথচারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের চাকুরীজীবি মাসুম হাসান বলেন, ‘বর্তমান সময়ে হরতাল কি কেউ আর মানে? হরতাল দিয়ে শুধু শুধু জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করে। হয়তো যেখানে আমি ১০ মিনিটে বাস পেতাম, সেখানে আমি ২০ মিনিটে বাস পাচ্ছি। তবুও তো যাচ্ছি। এটাকে তো আর হরতাল বলে না, শুধুমাত্র ভোগান্তি। হরতাল এক সময় আমরা দেখেছি, যেখানে রিকশা-ভ্যানও চলতে পারতো না। সেদিন এখন আর নেই। দিন বদলেছে।

আরেক পথচারী ও সরকারী কর্মকর্তা বলেন শেখ ইমরান বলেন, মানুষ এখন কর্মব্যস্ত থাকতে চায়। নাগরিক জীবনে হরতালের দিনগুলো এখন আর মানুষ মেনে নিয়ে ঘরে থাকতে চায় না। পেশাজীবনের সফলতায় সকলেই যার যার কর্মে ছুটতে চায়। বাংলাদেশে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনের প্রতিবাদে বায়তুল মোকাররম, হাটহাজারীসহ সারা দেশে হেফাজতের আন্দোলনরতদের ওপর হামলা ও  ৪ জন নিহত হওয়ার প্রতিবাদে ২৮ মার্চ সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডাকে হেফাজত ইসলাম। একই ঘটনায় শনিবার (২৭ মার্চ) সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি।

হেফাজতের হারতালে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন না দিলেও তা যৌক্তিক বলে দাবি করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

Sharing is caring!