চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহতলী এলাকার সাংবাদিক হেলাল উদ্দিন ইতালির বিশ^ বিখ্যাত ‘চেরি টমেটো’ এর চাষ শুরু করেছেন। এবারই প্রথম শুরু হয়েছে উন্নত জাতের চেরি টমেটোর চাষাবাদ। ৩০ শতাংশ জমিতে বিদেশেী জাতের এই টমেটোর চাষ করেন। সুদূর ইতালি থেকে চেরি টমেটোর ‘ম্যাগলিয়া রোসা’ জাতের বীজ সংগ্রহ করেন। চাঁদপুরে প্রথববারের মত এই উন্নত জাতের টমেটো চাষ করে তাক লাগিয়েছেন উদ্যোক্তা হেলাল উদ্দিন।

এদেশের আবহাওয়ায় ফলন বেশি ও বাজারে দাম ভালো থাকায় এই জাতের টমেটো চাষে কৃষকরা বেশি লাভবান হতে পারবে বলে মনে করছেন কৃষি বিভাগ। গাছে প্রচুর পরিমাণে ফলন হওয়ায় স্থানীয় কৃষক ও বেকার যুবকরা উদ্ধুদ্ধ হচ্ছেন ভিনদেশী এই টমেটো চাষে। গাছ ভর্তি থোকায় থোকায় ঝুলে রয়েছে চেরি টমেটো। আকারে আঙুরের চেয়ে কিছুটা বড় নতুন জাতের এই টমেটো কাঁচা অবস্থায় সবুজ থাকলেও পাকলে তা গাঢ় লাল ও কমলা রং ধারণ করে থাকে।

এই জাতের টমেটো গাছ আকারে অনেক বড় ও মজবুত হয়। সাধারণত একবার লাগাতে অন্তত চার মাস ফলন পাওয়া যায়। টমেটোতে উচ্চ মাত্রার এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। খেতে সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও অনেক। ভালো লাভবান হওয়া স্বপ্ন দেখছেন উদ্যোক্তা হেলাল উদ্দিন। প্রতিটি গাছে সাত থেকে আট কেজি টমেটো সংগ্রহ করা যায়। এই টমেটোর বীজ সংগ্রহ করে তা থেকে চারা উৎপন্ন সম্ভব। তাই আগামীতে এই টমেটো আবাদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যান্য কৃষকরাও এই টমেটো চাষে উদ্বুদ্ধ হলে অনেক বেশি লাভবান হতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।

উদ্যোক্তা হেলাল উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমার ফ্্রুটস্ ভ্যালিতে নতুন করে ইতালির চেরি টমেটো চাষাবাদ করেছি। মূলত এটি উন্নতজাতের টমেটো। এটি লম্বাটে আঙুরের মত দেখতে। গাছটিও প্রচুর লম্বা হয়। থোকায় থোকায় টমেটো ধরে। এটির পুষ্টিও দিগুন। আমার এখানে বাম্পার ফলন হয়েছে। সারাবিশে^ এই চেরি টমেটো খবুই জনপ্রিয়। এটি উচ্চ চাহিদাগত একটি পণ্য। যার মধ্যে ঔষুধিগুনাগুন রয়েছে। বিদেশ থেকে আমদানি করা এই সবজি ৯০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। কিন্তু আমি এখানে বিক্রি করছি ৩৫০ টাকা কেজি দরে।

হেলাল উদ্দিন বলেন, আমাদের চাহিদার বাইরেও বাম্পার ফলন হয়েছে। এখন আমরা বাজারজাত করার চেষ্টা করছি। আমরা সম্পন্ন ভাবে অরগানিক পদ্ধতিতে চাষ করতেছি। যা কিনা বিষমুক্ত চেরি টমেটো। আমরা চাই সাধারণ মানুষও চাষাবাদ করুক এবং এর স্বাধ গ্রহণ করে। পৈত্রিক পরিত্যক্ত ইটভাটায় বিদেশী নতুন এই সবজি চাষ করতে পারলে, সবাই নিজস্ব জমিতেও আমার মত চাষ করতে পারবেন বলে মনে কির। শতভাগ চেষ্টা থাকলে কৃষকদের ভাগ্য বদলে যেতে সময় লাগবে না।

চাঁদপুর সরকারি কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শাহিন সুলতানা বলেন, এখানকার পরিবেশ দেখলেই মন ভালো হয়ে যায়। এত সুন্দর একটি বাগান না দেখলে বুঝা যাবে না। এই প্রজেক্টকে দেখে অনেক বেকারদের শিখার কিছু রয়েছে। তারা এখানে এসে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। এছাড়া এখানে অনেকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

চাঁদপুর প্রেসকাবের সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী ঢাকা পোস্ট বলেন, হেলাল উদ্দিন পেশায় একজন সিনিয়র সাংবাদিক ছিলেন। সাংবাদিকতা পেশায়ও সফল হয়েছেন, বর্তমানে কৃষিচাষেও সফল হয়েছেন। পরিত্যক্ত ইটভাটায় এত চমৎকার পরিবেশ গড়েছেন, তা আমাদের জন্য গর্বের। চেরি টমেটো দেশে পাওয়াটা খুবই বিরল। বর্তমানে এটি চাঁদপুরে চাষাবাদ করে সাফল্য অর্জন করেছেন হেলাল উদ্দিন।

ফ্্রুটস্ ভ্যালির ইনচার্জ মো. হানিফ ঢাকা পোস্ট বলেন, চেরি টমেটো ছাড়াও এখানে বিদেশি নতুন নতুন ফলের চাষ হচ্ছে। আমরা মোটামুটি অনেকটাই সফল হয়েছি। বিভিন্ন স্থান থেকে আমাদের কাছে অর্ডার আসছে। আশা করি এই বছরের মধ্যে আমরা আরো নতুন কিছু চাষ করে সাফল্য অর্জনকরতে পারবো।

চাঁদপুর সদর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান ঢাকা পোস্ট বলেন, পরিত্যাক্ত ইটভাটায় ফ্্রুটস্ ভ্যালি বাগান তৈরি করা হয়েছে। পরিত্যাক্ত ইটভাটায় সবুজের সমারহ গড়াটা বড়ই কঠিন ছিলো কিন্তু সেটি করে দেখিয়েছেন হেলাল উদ্দিন। ইতালি থেকে চেরি টমেটোর বীজ এনে এখানে চাষ শুরু করেন তিনি। প্রথম চাষেই ব্যাপক ফলন হয়েছে। শীতকালে বেলে মাটিতে চেরি টমেটোর চাষ করলে কৃষকরা বেশি লাভবান হবে বলে বনে করেন কৃষি কর্মকর্তা।

Sharing is caring!