হাজীগঞ্জে আগুনে একটি বসতঘরসহ ৩টি ঘর পুড়ে ছাই হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার রাজারগাঁও ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম রাজারগাঁও গ্রামের পঞ্চায়েত বাড়িতে একটি বসতঘর ও একটি কাঁচারী ঘর এবং সদর ইউনিয়নের বাউড়া গ্রামের মিয়াজী বাড়ির পাশে সমাজসেবা অধিদপ্তরের স্বর্ণিভর নামক একটি পরিত্যক্ত ঘর পুড়ে যায়। আগুনে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্তরা দাবী করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী দক্ষিণ-পশ্চিম রাজারগাঁও গ্রামের সংবাদকর্মী আলমগীর হোসেন জানান, সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে অজ্ঞাত কারনে পঞ্চায়েত বাড়ির কাঁচারী ঘরে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পায় বাড়ির লোকজন। এরপর তাদের ডাক-চিৎকারে স্থানীয় ও এলাকাবাসী ছুটে আসে। কিন্তু আগুনের ভয়াবহতার কারনে কাঁচারী ঘরের কাছে কেউ যেতে পারেনি। এরপর কাঁচারী ঘরের পাশে মাহবুবদের বসতঘরে আগুণ ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌছে প্রায় আধাঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষনে কাঁচারী ঘর ও বসতঘর এবং ঘরে থাকা আসবাবপত্র, স্বর্ণালংকার, তৈজসপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সকল মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত মাহবুব ওই বাড়ির মরহুম আবু তাহের মাওলানার ছেলে। এদিকে আগুন লাঘার বিষয়টি সন্দেহজনক বলে জানান বাড়ির লোকজন। কারন, কাঁচারী ঘরে কেউ বসবাস করে না এবং সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগও ছিলোনা। অথচ কাঁচারি ঘর থেকেই অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত।

অপর দিকে একই দিনে (সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে বারোটা) হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বাউড়া গ্রামের মিয়াজী বাড়ির পাশে সমাজসেবা অধিদপ্তরের স্বর্ণিভর নামক একটি পরিত্যক্ত ঘর পুড়ে যায়। এই ঘরটিও দীর্ঘদিন যাবৎ পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলো। এখানেও বিদ্যুৎ সংযোগ ছিলোনা। তবে এই পরিত্যক্ত ঘরটিতে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় মাদকবেসীদের দ্বায়ী করেন স্থানীয় ও এলাকাবাসী।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান জানান, স্থানীয়দের সেবা প্রদানে ১৯৮৬ইং সালে সমাজসেবা অধিদপ্তর স্বর্ণিভর নামক এই ঘরটি নির্মাণ করে। বেশ কয়েক বছর ঘরটিতে কার্যক্রম চললেও পরর্তীতে গত প্রায় ২০-২৫ বছর যাবৎ ঘরটি অব্যবহৃত ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শাহদাত হোসেন জানান, বিষয়টি আপনার (সংবাদকর্মী) মাধ্যমে জেনেছি। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করে পরবর্তীতে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ জানান, অগ্নিকান্ডের দুইটি স্থান আমরা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলেছি। বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Sharing is caring!