চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে সড়ক ও জনপথের সম্পত্তি দখলে অভিযুক্ত মামলার প্রধান আসামী, বহু জাল দলিল সৃজনকারী, ভূমিদস্যু বিধান চন্দ্র সাহা ও তার ভাই সঞ্জিবন কুমার সাহা আদালতে হাজিরা দিতে আসলে তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার (২ মার্চ) দুপুরে চাঁদপুরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও আমলী আদালত হাজীগঞ্জের বিচারক এই আদেশ দেন।

মামলার নিয়মিত তারিখে বিধান চন্দ্র সাহা ও সঞ্জিবন কুমার সাহ আপন দুই আদালতে হাজিরা দিতে আসেন। এর আগে তারা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ছিলেন। সেই সময় শেষ হওয়ার পরে চাঁদপুর আদালতে হাজিরা দিতে আসলে আদাল জামিন না মঞ্জুর করেন। বিধান ও সঞ্জিবন হাজীগঞ্জ পৌরসভার মকিমাবদ এলাকার মৃত স্বপন কুমার সাহার ছেলে।

বিশ্বরোড চৌরস্তা সংলগ্ন সরকারের বিভিন্ন সম্পত্তি ও ব্যক্তি অনেক সম্পত্তি তারা ও তাদের একটি চক্র জালজালিয়াতি ও জাল দলিল করে দীর্ঘ দিন বিক্রয় ও অবৈধ দখল করে আসছে। বিধান ও সঞ্জিব আটক হলেও তাদের গডফাদার এখনো ধরা ছোয়ার বাহিরে রয়েছে। এলাকাবাসির দাবী হাজীগঞ্জে বিধান ও সঞ্জিবের গড ফাদারকেও আটক করা হউক।

শুধু সরকারি সম্পত্তিই নয়, বিধান চন্দ্র সাহা হাজীগঞ্জে মাদকের গড ফাদার এছাড়াও তার আরেক সহযোগিত রয়েছে অবৈধভাবে সরকারি সম্পত্তি জাল দলিল করে বিক্রয় করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ওই গড ফাদারের বিরুদ্ধে বিদেশে টাকা পাচারের অভিযোগও আছে। তার গড ফাদার হাজীগঞ্জের বিভিন্ন সরকারি সম্পদ জাল জালিয়াতি করে বিক্রয় ও ভোগ দখলের অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। এমনকি সেই ভূমি দস্যু হাজীগঞ্জের ডাকাতিয়া নদীর উপর চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, মহান মুক্তিযুদ্ধের ১নং সেক্টর কমান্ডার মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম এমপির স্বপ্নে সেতু টোরাগড়-বড়কুল সেতু নির্মাণ নিয়ে ভূমি জটিলতায় মামলা করে ব্রীজের কার্যক্রম ব্যাহতের চেষ্টা করে।

মামলার বিবরণ থেকে জানাগেছে, কুমিল্লা-চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর-বেগমগঞ্জ সড়কে ৪৯তম কি.মি. এ সড়ক উপ-বিভাগ হাজীগঞ্জ এর আওতাধীন সড়ক ও জনপথ বিভাগের (অধীগ্রহনকৃত) ভূমিতে অবৈধভাবে (বিভাগীয় অনুমতি ব্যাতীত) ২০১২ সাল থেকে ৬টি দোকানঘর নির্মাণ করে ব্যবসা করে আসছিলো। এই বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে তাদেরকে নোটিশ করা হয় এবং পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ওই মামলায় হাজিরা দিতে আসলে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

জানাগেছে, উল্লেখিত আসামীরা সড়ক ও জনপথের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে ৬টি দোকান যথাক্রমে সরকার বিল্ডার্স, মালেক এন্টারপ্রাইজ, ঢাকা ডোর, চিটাগাং ডোর, সেটেলাইটবিশন এবং বনরূপা ফার্ণিচার নামক প্রতিষ্ঠান অগ্রিম বাবদ ৪০ লাখ টাকা এবং মাসিক ভাড়া ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আদায় করে আসছেন।

সরকারি সম্পত্তি দখল ও জালজালিয়াতি করে দলিল তৈরী করায় ইতোমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত রিপোর্টও সত্যতা পেয়েছে। ভুক্তভোগীরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন। এর পূর্বে এই আসামীদের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।

Sharing is caring!