মিয়ানমারে জান্তা সরকারবিরোধী আন্দোলন দমাতে মরিয়া পুলিশ। রোববার বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রচণ্ড গুলি ছোড়ে পুলিশ। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছে ১৮ জন। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ২ শতাধীক।

রোববার ইয়াঙ্গুন, দায়ুই ও মান্দালায় বিক্ষোভে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন দেশটির অধিকারকর্মী, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। খবর : বিবিসি, সিএনএন ও আলজারিরা।

গণমাধ্যমের পোস্ট করা ছবিতে দেখা গেছে, মিয়ানমারের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনে কয়েকজন লোককে ধরাধরি করে বিক্ষোভস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তাদের কয়েকজনের দেহ রক্তাক্ত। তারা কীভাবে আঘাত পেয়েছেন তা পরিষ্কার না হলেও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাজা গুলির কথা বলা হয়েছে। মিয়ানমার নাও গণমাধ্যম গোষ্ঠী জানিয়েছে, লোকজনকে গুলি করা হচ্ছে। কিন্তু বিস্তারিত আর কিছু জানায়নি তারা।

ইয়াঙ্গুনের বিভিন্ন অংশে স্টান গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ব্যর্থ হয়ে পুলিশ গুলি ছোড়ে। বুকে গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে বলে পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন। মিজিমা গণমাধ্যমের চ্যানেলও এই মৃত্যুর কথা জানিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশ স্টান গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করছে এবং গুলি ছুড়ছে। শহরটিতে শিক্ষকদের একটি প্রতিবাদে স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এ সময় এখানে এক নারী মারা যান। তবে তার মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি বলে ওই নারীর কন্যা ও তার সহকর্মীরা জানিয়েছন। দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর দাউইয়েও পুলিশ গুলি করেছে। এখানে তিনজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় রাজনীতিক কিয়াও মিন হটিক জানিয়েছেন।

গণমাধ্যম ইরাবতী অনলাইনের প্রতিবেদনে দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়েও একজন নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। এখানেও সকাল থেকেই বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ। মধ্যাঞ্চলীয় শহর বাগোতে পুলিশের দমনাভিযানের মধ্যে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন বলে একটি দাতব্য সংস্থা জানিয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর লাশিও এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মায়িকেও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। মিয়ানমার যুদ্ধক্ষেত্রের মতো হয়ে গেছে-টুইটারে বলেছেন বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির প্রথম ক্যাথলিক কার্ডিনাল চার্লস মাউং বো। গত নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) ব্যাপক জয় পেলেও তার স্বীকৃতি না দিয়ে সেনাবাহিনী নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে গত ১ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতা দখল করে। নির্বাচিত নেত্রী অং সান সু চি ও এনএলডির অধিকাংশ নেতাকে গ্রেপ্তার করে কারবন্দি করে রাখে। এর পর থেকেই মিয়ানমারজুড়ে অস্থিরতা চলছে। অভ্যুত্থানের পর থেকে তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে প্রায় প্রতিদিন সামরিক শাসনবিরোধী বিক্ষোভ হচ্ছে। কোনো কোনো দিন বিক্ষোভে লাখো প্রতিবাদকারী যোগ দিয়েছেন। পশ্চিমা দেশগুলো অভ্যুত্থানের নিন্দা করেছে, কয়েকটি দেশ সীমিত কিছু নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী প্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং বলেছেন, প্রতিবাদ মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষ গণতান্ত্রিক পথ অনুসরণ করছে এবং পুলিশ রাবার বুলেট ব্যবহারের মতো ন্যূনতম শক্তি ব্যবহার করছে।

Sharing is caring!