চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা গুলিবর্ষণ করে একটি বাড়ীতে আগুন দিয়ে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। গুলিবর্ষণ করে তাণ্ডব ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে কয়েকটি ঘরে আগুন দিয়ে কমপক্ষে ১২টি বসতঘর ভেঙ্গে তছনছ করেই লুটপাট করেছে।  এ সময় সন্ত্রাসীদের বাধা দিতে গিয়ে এক ব্যাংক কর্মকর্তার পরিবারের ৩ সদস্যসহ ৬ জন গুরুতর আহত হয়েছে।

২২ ফেব্রুয়ারি সোমবার বিকেলে ফরিদগঞ্জের ১১নং চরদুঃখিয়া পূর্ব ইউনিয়নের সন্তোষপুর গ্রামের বেপারী বাড়িতে নৃশংস এ ঘটনা ঘটে। সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও কাউকে আটক করতে পারেনি।

সরজমিনে ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয় লোকজন জানায়, পশ্চিম সন্তোষপুর গ্রামের সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদের সাথে একই বাড়ির প্রবাসী লোকমান হোসেনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। বিরোধ নিরসনে স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিস হলেও তা নিষ্পত্তি হয়নি। এরই মধ্যে গতকাল সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) অস্ত্রধারী একদল সন্ত্রাসী হঠাৎ করেই ওই বাড়িতে হামলা চালায়।

ব্যাংক কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদের মেয়ে শাহনাজ আক্তার লিজা জানান, স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী এমরান হোসেন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে শতাধিক সন্ত্রাসী তাদের বাড়িতে হামলা করে। তারা গুলি ছুড়ে এবং আমার বাবা নূর মোহাম্মদের বসতঘরটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। তাদেরকে বাধা দিতে গেলে বাবা নূর মোহাম্মদ ও তিন ভাই গিয়াস উদ্দিন (৩৫), প্রতিবন্ধী জুয়েল (২০) এবং শিহাব (২৪)কে কুপিয়ে আহত করে। এছাড়া ওই বাড়ির শাহজাহান মাস্টার, মোক্তার আহমেদ, তোফায়েল, আলী হোসেন, আলমগীর, অলিউল্যা, মোঃ সেলিম, তাজুল ইসলাম, নেছার আহাম্মদ, হুমায়ুন ও জহিরসহ ১২টি বসতঘর কুপিয়ে ও ভেঙ্গে তছনছ করে ফেলে। নূর মোহাম্মদের গোয়ালঘর থেকে ৬টি গরু এবং ওই বাড়ির নেছার আহাম্মদের ১টি গরু নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। হামলা চলাকালে শাহজাহান মাস্টার (৫২), এমরান ভূঁইয়া নামে আরও দুজন আহত হয়।

স্থানীয় লোকজন জানায়, সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদের কাছে এলাকার মানুষের ৫ শতাধিক জমির দলির গচ্ছিত ছিলো। তার ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার ফলে সমস্ত দলিল পুড়ে গেছে। এছাড়া নগদ ৫ লক্ষসহ অন্তত ১০ লক্ষাধিক টাকার সম্পদ ভষ্মীভূত হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার ব্যাপারে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে গুলিবর্ষণ ও সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে তাণ্ডবের ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওঃ ইকরাম হোসেন হামিদ জানান, এটি কোনো মতেই মেনে নেয়া যায় না। এভাবে হামলা ও লুটতরাজকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

এ ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শহীদ হোসেন জানান, ঘটনা শুনে ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়েছি। তবে কাউকে আটক করতে পারিনি।

Sharing is caring!