চাঁদপুরের কচুয়ায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী লাভলী আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে স্বামী শাহাদাত হোসেন। ১৬ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার শাহাদাত হোসেনকে আদালতে হাজির করে পুলিশ । সেখানে হত্যার বিষয়ে স্বিকারোক্তি প্রদান করে সে । জানা যায়, গত ১৪ ফেব্রুয়ারী রবিবার সন্ধ্যায় কচুয়া উপজেলার বাচাইয়া ব্রিকফিল্ড সংলগ্ন এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

এব্যাপারে গৃহবধু লাভলীর হত্যাকারী তার স্বামী মনপুরা গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে মোঃ শাহাদাত হোসেনকে আসামী করে ৩০২ ধারায় কচুয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং-১৬, তারিখ- ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১। কচুয়া থানা পুলিশ হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করে মামলার একমাত্র আসামী শাহাদাত হোসেনকে গ্রেফতার করে ১৬ ফেব্রুয়ারী চাঁদপুরের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করে।

গ্রেফতারকৃত হত্যা মামলার আসামী শাহাদাত বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারী কার্য বিধি ১৬৪ ধারা মতে জবানবন্দি প্রদান করে। সে জানায়, তার ২য় স্ত্রী উপজেলার সহদেবপুর গ্রামের মোকছেদ আলীর মেয়ে লাভলী আক্তারের সাথে গত ১৪ ফেব্রুয়ারী বিকাল ৪ টার দিকে ঢাকা থেকে কচুয়া নিজ বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এবং বাচাইয়া এলাকার শায়েস্তা ইসলাম ব্রিকফিল্ডের ৩০০ গজ দক্ষিন-পশ্চিম কর্ণারে পুকুরের পাশে জমির কোনায় সন্ধ্যা ৭ টা ১৫ মিনিটের সময় এসে পৌছায়। সেখানে আসার পরে তারা দুজন পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়া কথাকাটাকাটি শুরু করে। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ভিকটিম লাভলী আক্তার পায়ে হেঁটে জমির মাঝখান দিয়ে মামলার ঘটনাস্থলে পৌছায়। এবং আত্মহত্যা করে স্বামীকে মামলাতে ফাঁসানোর বিভিন্ন ধরণের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে।

একপর্যায়ে শাহাদাত হোসেন লোকজন জানাজানি হলে ও মামলা মোকাদ্দমার ভয়ে এবং পারিবারিক কলহের কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে ভিকটিম লাভলী আক্তার এর গলায় দুই হাত দিয়ে চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে তাকে প্রাণে হত্যা করে। তার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর শাহাদাত হোসেন ঘটনাস্থল ত্যাগ করে ঢাকায় চলে যায়।

পরের দিন ১৫ ফেব্রুয়ারী সোমবার আসামী পুনরায় কচুয়ায় এসে শ্বশুর বাড়ির লোকজনের সাথে নিজেও স্ত্রী লাভলী আক্তারকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে।

প্রসংগত: সেদিন সকালে এক কৃষক মাঠের মাঝে লাভলীর মৃত দেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন জড়ো করে। এবং কচুয়া থানা পুলিশকে সংবাদ দেয়। পরবর্তীতে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে সুরাহতাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ চাঁদপুরের মর্গে প্রেরণ করে। এবং সন্দহবাজন হিসেবে মৃত লাভলী আক্তারের স্বামীকে গ্রেফতার করে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এবং সে ঘটনার স্বিকারোক্তি প্রদান করে। এদিকে লাভলী হত্যার বিচারের দাবী জানায় এলাকাবাসী।

Sharing is caring!