মাত্র ৩ মাস বয়সেই বাবা হারানো মেয়েটি জীবন সংগ্রামে আজ “অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী” হিসেবে সরকারের জয়ীতা সম্মননা পেয়েছে। তার জীবন শুরু হয়েছিল গণশিক্ষার শিক্ষকতা দিয়ে। আজ তার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারি সংখ্যা অর্ধশতাধীক। যেই মেয়েটির এক সময় কর্মই ছিলনা, সেই মেয়েটিই এখন কর্মদেন মানুষকে। অনেককে ঋণ দিয়ে স্বাবলম্বীও করে দেন।

তিনি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের রাবেয়া আকতার মায়া। তার গ্রামের বাড়ী হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন ৩নং ওয়ার্ড খাটরা বিলওয়াই গ্রামে। হাজীগঞ্জ বাজারে জনতার কল্যাণ সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান’সহ কয়েটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধীকারী তিনি। স্বামী, ছেলে ও ২ মেয়ে তার সংসার।

যে বয়সে মেয়েরা পুতুল নিয়ে খেলা করার কথা সেই ৮ বছর বয়সে তার বসতে হয় বিয়ের পিঁড়িতে। সেখান থেকেই তার জীবন সংগ্রাম শুরু। রাবেয়া আকতার মায়া এখন এককভাবে কয়েকটি ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানের মালিক। নিজে অর্থনৈতিকভাবে সাফল্যতা অর্জন করেছেন।

গত বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামের শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পাঁচ শ্রেষ্ঠ জয়িতাকে সম্মাননা দিয়েছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিভাগের শিক্ষা, পেশাগত, অর্থনীতি এবং জননী ক্যাটাগরিতে পাঁচ উদ্যোক্তাকে জননী সম্মাননা দেওয়া হয়।

সেখানেই “তোমরাই বাংলাদেশের বাতিঘর” নামক অনুষ্ঠানে “অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী” হিসেবে শ্রেষ্ঠ ক্যাটাগরিতে সম্মাননা প্রদান করা হয় রাবেয়া আকতার মায়াকে।

যেসব ক্যাটাগরিতে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে তাহলে শিক্ষা ও চাকরি, সফল জননী, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করা নারী, সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখা নারী ও অর্থনৈতিকভাবে সফল নারী।

অনুষ্ঠানে ঢাকা শিশু একাডেমি থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেন, আবহমান কাল থেকেই নারীরা শোষণ ও বৈষম্যের স্বীকার হয়ে আসছে। জাতির পিতাই এদেশে নারীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন করেন। ১৯৬৯ সালে জাতির পিতার নির্দেশনায় মহিলা আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশ স্বাধীনের পর তিনি নির্যাতিত নারীদের চিকিৎসা ও তাদের কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন।

তিনি আরও বলেন, জয়িতাকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় নারীবান্ধব বিপণীকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছে। দেশে আজ ক্ষুদ্র ব্যবসা ও অনলাইনভিত্তিক ই-কমার্সের জয়জায়কার। তার পেছনে রয়েছে জয়িতা কার্যক্রম ও ডিজিটাল বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবদান। তথ্যপ্রযুক্তি সুবিধার কারণে নারী উদ্যোক্তারা সহজে ব্যবসা শুরু করতে পারছে। আজ দেশের শতকরা ৮০ ভাগ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন নারী উদ্যোক্তারা।

চট্রগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এ বি এম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কাজী রওশন আক্তার, জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান চেমন আরা তৈয়ব ও জয়িতা ফাউন্ডেশনের এমডি আফরোজা খান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্রগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত ডিআইজি জাকির হোসেন খান, জেলা প্রশাসক চট্রগ্রাম মোহাম্মদ মমিনুর রহমানসহ বিভগীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ।

Sharing is caring!