ভারতের মুম্বাইয়ের বিখ্যাত নরিম্যান পয়েন্টের একটি ফার্মে বছরে ১৫ লক্ষ টাকার চাকরি। কিন্তু এত মোটা অঙ্কের চাকরি মায়া ত্যাগ করলেন পেশায় চার্টাড অ্যাকাউন্ট যুবতী। সব ছেড়ে তিনি জৈন ধর্মে দীক্ষা নিতে চলেছেন। পুরনো বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে, সংসারের মোহ কাটিয়ে একেবারে সাধু-সন্ন্যাসীদের মতো থাকবেন! শুনতে অবাক লাগলেও সত্যিই এমনই সিদ্ধান্তে অবিচল পায়েল শাহ নামে ৩১ বছর বয়সি মুম্বাইয়ের এক যুবতী।

জানা গেছে, আদতে গুজরাটের হলেও পায়েল এবং তাঁর পরিবার থাকেন মুম্বাইয়ে। পায়েলের বাবার একটি ব্যবসা রয়েছে। বোন এমবিএ করার পর চাকরি করেন একটি ফার্মে। পায়েল নিজেও চার্টাড অ্যাকাউন্ট পাশ করার পর ২০১৪ সাল থেকে এক জায়গায় চাকরিও করছিলেন। কিন্তু গত বছর নিজের বাড়ির পাশে থাকা জৈন সন্ন্যাসিনীদের সঙ্গে পরিচয় হয় পায়েলের। এরপর ধীরে ধীরে তাঁদের সঙ্গে সময় কাটাতেও শুরু করেন তিনি। এক বছর তাঁদের সংস্পর্শে থাকার পর তাঁর মনোভাব পালটে যেতে থাকে। শেষপর্যন্ত জৈন ধর্ম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন পায়েল।

তাঁর পরিবার থেকে তিনিই প্রথম যিনি জৈন ধর্মে দীক্ষা নিতে চলেছেন। পরিবারের তরফ থেকে কোনও আপত্তি যদিও করা হয়নি। তবে যে সংস্থায় পায়েল কাজ করতেন, তাঁরা পায়েলকে চাকরি না ছাড়ার কথাও বলেছিল। এমনকী তাঁর বেতন আরও বাড়িয়ে দেওয়ার কথাও জানিয়েছিল। কিন্তু পায়েল নিজের সিদ্ধান্তেই অনড়। তাই চাকরি ছেড়ে গতকাল রবিবারই দীক্ষা নেন তিনি।

জানা গেছে, আচার্য ভগবন্ত প্রবচন প্রভাবক পিপি ক্রিত্তিয়াসুরিশ্বরজি মহারাজ পায়েলকে দীক্ষা দেবেন। তারপর থেকেই আর পাঁচজন জৈন সন্ন্যাসিনীর মতোই কঠোর জীবন কাটাবেন তিনি। সচরাচর কাউকেই এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে দেখা যায় না। তবে পায়েলের এই খবর সামনে আসার পর অনেকেই অবাক হয়েছেন। কেউ তাঁকে সমর্থন জানিয়েছেন, কেউ আবার এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রশ্নও তুলেছেন।

নতুনেরকথা/ম

Sharing is caring!