বিশেষ প্রতিনিধি:

আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারী-ে২০২১ খ্রি: চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ ও কচুয়া পৌরসভাসহ দেশের আরো ৫৬টি পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি সারাদেশের ৫৬টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। চতুর্থ ধাপের ৫৬টি পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ আগামী ১৭ জানুয়ারি।

রোববার (৩ জানুয়ারি) কমিশনের বৈঠক শেষে এই তথ্য জানান নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ আলমগীর।

এক ব্রিফিংয়ে মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, এই নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ আগামী ১৭ জানুয়ারি, মনোনয়নপত্র বাছাই ১৯ জানুয়ারি এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি। ৩১টি পৌরসভায় ইভিএমের মাধ্যমে ভোট নেওয়া হবে। বাকিগুলোতে ব্যালটে ভোট চলবে।

কিসের ভিত্তিতে ইভিএম এবং ব্যালট পেপার জানতে চাইলে ইসি সচিব মো. আলমগীর বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে কমিশন আলোচনা করেছে, যে সব পৌরসভাকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেছে কমিশন, সেগুলোতে ইভিএমে ভোটের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাকিগুলোতে ভোট হবে ব্যালট পেপারে।’

তিনি বলেন, প্রথম থেকে তৃতীয় ধাপের মতো সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন অফিসার অথবা সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার অথবা ক্ষেত্রবিশেষে অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। তবে, কয়েকটি পৌরসভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবেও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এ সময় ইলেকটোরাল ট্রেইনিং ইনস্টিটিউটের (ইটিআই) প্রশিক্ষকদের সম্মানী ও ভাতা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ইটিআইর যে খরচ নিয়ে অডিট বিভাগ আপত্তি জানিয়েছে সেসব বিষয়ে আমরা একটি নীতিমালা প্রণয়নের চেষ্টা করছি। এসব খরচ নিয়ে একটা নীতিমালা থাকলে এগুলো নিয়ে আর প্রশ্ন উঠবে না। প্রস্তাবিত নীতিমালা অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। এ নিয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটি কিছু প্রস্তাবনা দিয়েছে। সেগুলো আরও অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত প্রস্তাবনাটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যকার আলোচনা থেকে যেটা চূড়ান্ত করা হবে সেভাবেই বিভিন্ন প্রশিক্ষণে খরচ করা হবে।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে দেশে ৩২৯টি পৌরসভা রয়েছে। গত ২২ নভেম্বর প্রথম ধাপের ২৫টি পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী গত ২৮ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই ধাপের নির্বাচনে ৬৫.৬ শতাংশ ভোট পড়ে। এরপর গত ২ ডিসেম্বর দ্বিতীয় ধাপের ৬১টি পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। দ্বিতীয় ধাপের তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৬ জানুয়ারি ৬১টি পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ২৯টি পৌরসভায় ইভিএমে এবং ৩২টি পৌরসভায় ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে।

এছাড়া গত ১৪ ডিসেম্বর তৃতীয় ধাপের ৬৪টি পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। আগামী ৩০ জানুয়ারি তৃতীয় ধাপের ৬৪টি পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সর্বশেষ ৫৬ পৌরসভার তফসিল ঘোষণা করা হলো। এ নিয়ে চারধাপে ২০৬টি পৌরসভার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে।

 

 

 

 

 

Sharing is caring!