করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে মানুষের পুষ্টি চাহিদা পুরনে সরকার সারাদেশে পারিবাকি সবজি বাগান করার জন্য উদ্যোগ গ্রহন করে। সেই আলোকে প্রনোদনা প্রদান করা হয় ব্যাক্তি পর্যায়ে। গত জুলাই মাসে চাঁদপুর জেলায় তালিকা করে ২হাজার ৭শ’ ২০ পরিবারকে ১ হাজা ৯শ’ ৩৫টাকা প্রনোদনা দেয়া হয়। সেই টাকায় বাড়ির আঙ্গিনা ও উঁচু জমিতে সবজি বাগান আবাদ করেন লোকজন। মাত্র কয়েকমাসে প্রচুর পরিমাণে সবজি উৎপাদন হয় এবং সকলের নিকট জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সবজি উৎপাদন। বিশেষ করে করোনা পরিস্থিতিতে প্রবাস ফেরৎ ও শহরে থেকে গ্রামে এসে বেকার লোকজন এসব কাজে বেশী আগ্রহী হয়ে উঠেন।

চাঁদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, সরকারি প্রণোদনা হিসেবে প্রতিজন কৃষককে ১৪ জাতের সবজির বীজ, বাগান তৈরির আনুষঙ্গিক ব্যয় বাবদ নগদ ১ হাজার ৯শ’ ৩৫ টাকা করে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে চাঁদপুর সদরে সদর ৪১৬টি, ফরিদগঞ্জে ৪৮০টি, হাজীগঞ্জে২৮৮টি, মতলব দক্ষিণে ১৯২টি, মতলব উত্তরে ৪৪৮টি, কচুয়ায় ৩৮৪টি, শাহরাস্তিতে ৩২০টি এবং হাইমচরে ১৯২টিসহ সর্বমোট ২ হাজার ৭শ’ ২০টি পুষ্টি বাগান রয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে চাঁদপুরে এখন অনেকেই গড়ে তুলছেন এ ধরনের সবজি বাগান। সবুজের সমারোহ ঘেরা এসব বাড়ির পুষ্টি বাগানে ১৪ জাতের সবজি উৎপাদিত হচ্ছে। যার মধ্যে লাউ, সিম, ঢেঁড়স, ডাটা, ধনিয়া, চিচিংগা, পুঁই শাক, কলমি শাক, লাল শাক, পালং শাক, পেঁপে, মুলা, করলা ইত্যাদি সবজিও রয়েছে।

চাঁদপুর সদর উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের মদনা গ্রামের কৃষক মোস্তফা শেখ বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে অনেকটা বেকার অবস্থায় বাড়ীতে ছিলাম। সরকারিভাবে আমাদেরকে ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে নিয়ে বাড়িতে সবজি বাগান করার জন্য ১হাজার ৯শ’ টাকা করে প্রদান করেন। ৩৫ টাকা আমাদের একাউন্টে জমা রাখা হয়। সেই টাকা দিয়ে আমি আমার বাড়ীর ৫শতক জমিতে জুলাই মাসের শেষের দিকে বিভিন্ন সবজি আবাদ করি। সরকারের পক্ষ থেকে প্রথমে বীজ দেয়া হয়। বৃষ্টিতে ক্ষতিহলে আবারও ওই টাকা দিয়ে বীজ ও সার ক্রয় করি। বর্তমানে শীতকালীন সবজি উৎপাদন করে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বাড়ীর লোকজনকেও দিতে পারছি।

চাঁদপুরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পারিবারিক সবজি বাগান।

একই গ্রামের কৃষক বসু ঢালি, জহির মিজি ও আলি আশ্বাদ বাড়িতে পারিবারিক সবজি বাগান গড়ে তুলেছেন। তাদের বাগানগুলো সবুজের সমারহ। সকল ধরণের সবজি চোখে পড়ার মতো। তারাও জানালেন, নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বাড়ীর অন্যান্য পরিবারের লোকজন তাদের বাগান থেকে সবজি নিয়ে খাচ্ছেন এবং বিক্রিও করছেন। তারা সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং এই ধরণের প্রনোদনা অব্যাহত রাখার আহবান জানান।

এই বিষয়ে স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা চন্দ্রনাথ দাশ বলেন, পুষ্টি বাগান করার জন্য বাড়ির আঙ্গিনায় একটা বেড থেকে আরেকটা বেড ১২ ইঞ্চি দূরে দূরে তৈরি করাই। প্রতিটা বেডের চারদিক দিয়ে ১০ থেকে ১২ ইঞ্চি নালা রাখতে নির্দেশনা দেই। এভাবে পাঁচটি বেড তৈরি করা হয়। যাতে পাঁচ জাতের শাকসবজি কৃষক বপন বা রোপণ করতে পারে। এজন্যে বার্মি সার বা কেঁচোসার তাদেরকে দেয়া হয়। এর সাথে কোনো পোকামাকড় যদি শাক সবজিতে আক্রমণের সম্ভাবনা থাকে তা দমন করতে কীটনাশক ব্যবহারের পরিবর্তে আইপিএম পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দেই। যাতে পরিবেশবান্ধবভাবে পোকামাকড় দমন করা সম্ভব হয়।

চাঁদপুর জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ জালাল উদ্দিন জানান, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা প্রতি ইঞ্চি কৃষি জমিকে কাজে লাগাতে হবে। সারা বছর সবজি যেন চাষ হয় সে লক্ষ্যে জুন থেকে এই প্রকল্পে কৃষি প্রণোদনা ভর্তুকি খাতে কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ ও নগদ অর্থ দেয়া হয়েছে। তার মধ্যে জেলায় ২ হাজার ৭শ’ ২০ জন কৃষককে কালিকাপুর মডেলে শাক-সবজি উৎপাদনের জন্যে সবজি বীজ ও আনুষঙ্গিক খরচ হিসেবে নগদ টাকা দেয়া হয়। এতে করে কৃষকের পতিত জমি ও বাড়ির আঙ্গিনা কৃষি কর্মসূচির আওতায় এসেছে এবং সাধারণ মানুষের কাছে পারিবারিক পুষ্টিবাগান জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

Sharing is caring!