হাজীগঞ্জে দায়িত্ব অবহেলা, অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগে উপজেলার বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. মনির হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন, চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান। তার বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগের তদন্তের স্বার্থে এই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

রোববার জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশ সূত্রে বরখাস্তের এই খবর জানা গেছে। যার স্মারক নং- বিভাগীয় মামলা নং- ০২/২০২০-৮১২, তারিখ- ২৯-১১-২০২০ইং।

আদেশে উল্লেখ করা হয়, সরকারি দায়িত্বে অবহেলা, সরকারি দায়িত্বে থেকে জনর্দূভোগ সৃষ্টি ও দূর্ণীতি পরায়নতার শামিলা বিধায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা ২০১৮ এর ২ (খ) ধারায় প্রদত্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে একই বিধিমালার ৩ (খ), (ঘ) ধারায় দায়িত্বে অবহেলা, অসদাচরণ ও দূর্ণীতি পরায়নতার দায়ে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বিবেচনায় মনির হোসেনের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগের তদন্তের স্বার্থে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধামালা ২০১৮ এর ১২ ধারা মোতাবেক তাকে বরখাস্ত করা হয়।

জানা গেছে, রাচন্দ্রপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের আওতাধীন রান্ধুনীমূড়া মৌজায় হাজীগঞ্জ পৌরসভার অর্ন্তভুক্ত ৮২৩, ৯৮৭, ৬৪২ ও ৩৫৭নং জোতের অনুকূলে বিধি বর্হিভুতভাবে ভূমি উন্নয়ন করের মওকুফ দাখিলা প্রদান ও ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের রান্ধুনীমুড়া মৌজায় ৫টি জোতের ভূমি উন্নয়ন কর দাবি নির্ধারণ এবং আদায়ও করেননি মনির হোসেন। যা দায়িত্ব অবহেলা ও অনভিজ্ঞতার পরিচয়ের দায়ে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

মনির হোসেন একজন মুক্তিযোদ্ধার জমি নামজারী ও জমাখারিজের জন্য সরকারি ফি’র অতিরিক্ত ১৬ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। এ ছাড়াও তিনি একটি বেসরকারি টিভিতে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন যে, নামজারী ও জমাখারিজ ফি ১১৭০ টাকা হলেও ৪ থেকে ৫ টাকা তার দ্বারা গৃহীত হয়। এই অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করা বেআইনি। যা সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

মনির হোসেন তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে ভূমি মন্ত্রণালয়ের জাতিসংঘ

কর্তৃক একটি অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। যা অসাচারণের হিসেবে গণ্য। তাই উল্লেখিত অপরাধগুলোর কারনে এবং বিষয়টি তদন্তের স্বার্থে জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। যা গত ২৬ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) থেকে কার্যকর হবে।

এ দিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মনির হোসেন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নাম ভাঙ্গিয়ে (নাম ব্যবহার করে) জমি নামজারী ও জমাখারিজের জন্য আসা গ্রাহকদের কাছ থেকে সরকারি ফি’র অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতেন। যা তিনি নিজেও স্বীকার করে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে বক্তব্য দিয়েছেন। তার বরখাস্তের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে এলাকাবাসী ও স্থানীয়রা তার শাস্তি দাবি করেন।

Sharing is caring!