মেঘনা নদীর চাঁদপুরের হরিণা ফেরিঘাট ও আলু বাজার পয়েন্টে বালুবাহী বাল্কহেড থেকে বেপরোয়া চাঁদাবাজির প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিচার দাবিতে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দশানী বেড়ি বাঁধ এলাকায় বিক্ষোভ ও আলোচনা সভা করেছেন মালিক-শ্রমিকরা।

মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) বিকেলে মতলব উত্তর বাল্কহেড সমবায় সমিতির আয়োজনে দশানী বেড়িবাঁধে বিক্ষোভ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মতলব উত্তর বাল্কহেড সমবায় সমিতির সভাপতি মর্তুজা সরকারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শাহীনূর বেপারীর পরিচালনায় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ নৌ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ কার্গো ট্রলার বাল্কহেড শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বেপারী।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ কার্গো ট্রলার বাল্কহেড শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান হাওলাদার। বক্তব্য রাখেন- মতলব উত্তর বাল্কহেড সমবায় সমিতির সদস মোহন ছৈয়াল, আবদুস সালাম খান, খোকন প্রধান, মাহফুজ সরকার, হালিম বেপারী ও মিজানুর রহমান হালাদার’সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা জানান, ইমারত নির্মাণে বালু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মতলব উত্তর অঞ্চলের অন্তত ৪০০ বাল্ডহেড বালু পরিবহন করে। পথেমধ্যে চাঁদপুরের হরিণা ফেরিঘাট ও আলু বাজার সংলগ্ন মেঘনা নদীতে ট্রলার ও স্পিডবোটযোগে প্রতিটি বাল্কহেডে হানা দিয়ে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা চাঁদা নেয় স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী।

দাবিকৃত চাঁদা না দিলে বাল্কহেড শ্রমিকদের মারধর করে সঙ্গে টাকা মোবাইল ফোন ও টাকাসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নেয়। অনেক সময় বাল্কহেড আটকে রেখে নদীতে বালু ফেলে দেয়। কখনো বাল্কহেড ডুবিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় তারা।

চাঁদপুরের ১০ নম্বর লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সেলিম খান মেঘনা নদীতে বালুবাহী বাল্কহেড থেকে চাঁদাবাজীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। চাঁদা না দেওয়ায় বালুবাহী বাল্কহেডের শ্রমিকদের মারধর করে বাল্কহেড আটকে রাখে সন্ত্রাসীরা।

ওই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অত্যাচার-নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতেই বিক্ষোভ করেন নির্যাতিত মালিক-শ্রমিকরা। বিক্ষোভ থেকে মেঘনার চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী সেলিম খান ও তার বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সু-দৃষ্টি কামনা করা হয়।

Sharing is caring!