যুক্তরাষ্ট্রে ২৪ ঘণ্টায় দুই লাখের বেশিও মানুষের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এতে মূলত দেশটিতে টিকার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিই জোরদার হচ্ছে। এছাড়াও এ ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে এক কোটির বেশি আক্রান্ত ও দুই লাখ ৪০ হাজারের মতো মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দিন দিনই আক্রান্ত ও মৃত্যের সংখ্যা বাড়ছে।

বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির দেশটিতে যেভাবে করোনা প্রতিদিন নতুন নতুন রেকর্ড গড়ছে, তাতে করোনার বিভৎসতা থেকে মুক্তি পেতে একমাত্র টিকাই স্বস্তি আনতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে এ মহামারীতে একদিনে এক হাজার ৫৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এমন একসময় এ খবর আসছে, যখন ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপের খবর আসছে।

ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে কিছু কিছু শিল্পে ব্যাপকভাবে আঘাত হেনেছে। কিন্তু সামাজিক দূরত্ব ও লকডাউন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার এক ধরনের আসারও জোগান দিয়েছিল।

এ ছাড়া বিশ্বের অন্যতম বড় ওষুধ কোম্পানি ফাইজার ও তার জার্মান অংশীদার বিয়নটেক সোমবার তাদের টিকা ৯০ শতাংশ কার্যকর দেখানোর পর মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

প্রাণঘাতী ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বন্ধে একমাত্র টিকাই সবচেয়ে বড় সুযোগ এনে দিতে পারে। গত বছরের ডিসেম্বরে প্রথম করোনা শনাক্ত হওয়ার পর তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে মহামারীর রূপ নেয়। এর পর মানুষের চলাচলে মারাত্মক লকডাউন ও বিধিনিষেধ আরোপ করে বিভিন্ন দেশ।

ফাইজার ও বিয়নটেক জানিয়েছে, চলতি বছর বিশ্বজুড়ে অন্তত পাঁচ কোটি টিকা সরবরাহ করতে পারবে তারা। পরের বছর সেই সংখ্যা দাঁড়াবেই ১৩০ কোটিতে।

এ খবরের পর বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায় ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। যদিও এটির পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলমান রয়েছে। আর বিশাল সরবরাহ চেইন তৈরি করতে টিকা প্রার্থীদের বিশেষায়িত ডিপ ফ্রিজে তা মজুদ করে রাখতে হবে।

বৈশ্বিক মহামারী করোনা এখন পর্যন্ত বিশ্বের পাঁচ কোটি ১০ লাখ মানুষকে আক্রান্ত করেছে। আর ১২ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এই ভাইরাসে।

মঙ্গলবার বিশ্বজুড়ে ছয় হাজার ৮৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফ্রান্স, স্পেন ও যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল সর্বাধিক।

Sharing is caring!