সবজিরে আগুন লেগেছে। বাজারে গেলেই নাভিশ্বাস উঠছে গরীব ও মধ্যবিত্তদের। ২০ টাকার আলু ৬০ টাকা, ১০ টাকা আটি (মুষ্টি) পুঁইশাক ৪০ টাকা। লাল শাকের আটি ২০/২০ টাকা, লাউয়ের শাক আটি ৬০ টাকা সবকিছুর দামই উর্ধ্বমূখি। তবু বাজার মনিটরে নেই কেউ। বিজ্ঞপ্তি দিয়েই সব। বাজারে প্রশাসনের কোন কর্তা ব্যক্তিকে দেখা যায়না।

কয়েকদফা বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে উৎপাদন কমে যাওয়ায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। পাইকারি ও খুচরা বাজারে দ্রব্যমূল্যের দামের তারতম্যও লাগাম ছাড়া। করোনার দীর্ঘ স্থবিরতার মধ্যে এমন অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে বিপাকে ক্রেতারা। বেসামাল এই সবজির বাজার নিয়ন্ত্রণে নেই কোন তদারকি । উত্তরের সবচেয়ে বড় পাইকারি সবজির হাট বসে বগুড়ার মহাস্থানে। প্রতিদিন অন্তত ২৫ থেকে ৩০ টি ট্রাকে রাজধানিসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এই হাট থেকে নানান জাতের সবজি সরবরাহ করা হয়। কিন্তু গেলো প্রায় ১০ দিন এখানে চাহিদার তুলনায় অনেক কম সবজি মিলছে পাইকারি ক্রেতাদের।

গত বছর লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় দ্বীগুন সবজি উৎপাদন হওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকদের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার অভিযোগ ছিলো।

এবার কয়েকদফা বন্যা ও টানা বৃষ্টিপতের কারণে ফলন হয়েছে অনেক কম। উৎপাদন কম হওয়ায় পাইকারি বাজারে সব ধরনের সবজির দাম কয়েক গুন বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের মুখে তৃপ্তির হাসি থাকলেও অতিরিক্ত দাম ও চাহিদা অনুযায়ি সবজি কিনতে না পারায় বিপাকে পরেছেন পাইকারি বিক্রেতারা।

এদিকে, পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে কেনা সবজির দাম ইচ্ছেমতো বাড়িয়ে বিত্রি করছে খুচরো বিক্রেতারা। মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে মহাস্থান বাজার থেকে পাইকারি দামে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দয়ে কেনা বেগুন বগুড়া শহরের বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১০০/১২০ টাকা প্রতি কেজি। একইভাবে আলু, পটল, মূলা, করলাসহ সব ধরনের সবজিতেই কেজি প্রতি নেয়া হচ্ছে ১০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেশি দাম। বাজার করোনার দীর্ঘ স্থবির এ সময়ে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের নজরদারি বাড়ানোর দাবি ক্রেতাদের।
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ, মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ, চাঁদপুর সদর, হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তিতে ভাসমান বেডে প্রচুর পরিমাণে সবজি চাষ করা হয়েছে। বাজারে আমদানিও হচ্ছে প্রচুর। কিন্তু দাম ছাড়ছেনা খুচরা বিক্রেতারা। তাদের অভিযোগ পাইকারী দোকান থেকে আমাদের বেশী দাম দিয়ে কিনতে হয়।
হাজীগঞ্জ বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা আকতার হোসেন জানান, কেনার উপরে বেচা। বাজার খুবই উর্ধ্বমূখী। কুমিল্লা থেকে অনেক কাঁচা মাল এনে বিক্রয় করতে হয়। বাজারে প্রচুর সবজি আমাদানী আছে। কিন্তু দামও প্রচুর।
হাজীগঞ্জ তরকারি পট্রিতে জামাল হোসেন নামে এক ক্রেতা জানান,  সরকার বলছে আলুর কেজি ৩০/৩৫ টাকা। বাজারে দেখি আলুর কেজি ৬০টাকা।
কবির হোসেন নামে এক খুচরা ব্যবসায়ী জানান, প্রতি কেজি বেগুন ১০০ টাকা, শীম ১৬০ টাকা, ফুল কপি কেজি প্রতি ১৪০ টাকা। সর্বনিম্ন আলুর দামই আছে যা ৬০টাকা। এভাবে আমরা না খেয়ে মরতে হবে।
চাঁদপুরে শীতকালীন শীতের আগাম জাতের সবজি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এবছর ৫ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারন করা হলেও কয়েকদফা বন্যা এবং বৃষ্টির কারনে তা পূরন করা সম্ভব হয়নি। এর উপর ব্যাসায়িদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রন করা না গেলে ক্রেতাদের অসহায়ত্ব আরো বাড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

 

Sharing is caring!