চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ । ওই ঘটনায় অভিযুক্ত চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে শাহরাস্তি উপজেলার টামটা উত্তর ইউপির ইছাপুরা গ্রামের নলুয়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে ।

জানাযায়,  কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার জোয়াগ ইউপির কৈইলান গ্রামের  আলী হাসানের মেয়ে হাবিবা আক্তার (২০) শাহরাস্তির ইছাপুরা গ্রামের নলুয়া বাড়ির হারুনুউর রশিদের (৫৫) পুত্র মহিউদ্দিন (২৬) সাথে বিয়ে দেওয়া হয়। তার ভাই রিয়াদ জানান, বিয়ের পর তার ভগ্নিপতি মহিউদ্দিন বোনকে নিয়ে ঢাকায় চলে যান। সেখানে ঢাকার জিগাতলা এলাকায় বসবাস করছিল। সম্প্রতি করোনাকালে দেশের বাড়িতে বউকে রেখে পরদিন আবার ঢাকায় চলে যায়। এরমধ্যে হাবিবার শ্বশুরালয় থেকে বিভিন্ন সময় যৌতুকের জন্য চাপ আসে। সম্প্রতি নিহত হাবিবের পরিবার শ্বশুরবাড়ির দাবির মুখে দেড় লক্ষ টাকা পরিশোধ করে।তারপরও তার ওপর নির্যাতন বন্ধ হয় না বলে মুঠোফোনে মেয়ে হাবিবা তার মাকে জানায়। ওই কষ্টের কথা সম্প্রতি হাবিবা তার মাকে জানায় এটাই হয় তার মায়ের সাথে শেষ কথা।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে শ্বশুরালয়ের শশুর হারুনুর  ও তার স্ত্রী শাশুড়ি আয়েশা বেগম (৪৫) ননদ হাসনা আক্তার একটি হলুদের অনুষ্ঠানে যায়। ঘরে ফিরে গৃহবধূর হাবিবার রুমের দরজা বন্ধ দেখে উঁকি দিয়ে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। পরে বিষয়টি শাহরাস্তি থানা পুলিশকে অবহিত করলে ওই রাতে পুলিশ এসে মরদেহ থানা হেফাজতে নিয়ে যায়।১৬ অক্টোবর শুক্রবার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সরকারি হাসপাতাল মরদেহ পেরন করে।এদিকে  ওই ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে নিহতের মা শাহরাস্তি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার নং ১৩/১৬/১০/২০ ।এদিকে শাহরাস্তি থানা পুলিশ ওই ঘটনায় নিহত গৃহবধূর স্বামী মহিউদ্দিন (২৬) শশুর হারুনুর রশিদ (৫৫) শাশুড়ি আয়েশা বেগম (৪৫) ননদ হাসনা আক্তারকে (১৭) আটক করে ।

শাহরাস্তি থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ শাহআলম এলএলবি জানান, নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আত্মহত্যার প্ররোচনার একটি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া হঠাৎ করে গৃহবধু তার ১৫ মাসের নাফিজা নামে একটি মেয়ে রেখে গেছে।

মৃত্যুর রহস্য নিয়ে এলাকার নানান কথা প্রচার হয়েছে । কে বলছে তার শশুর বাড়ির লোকজনের  প্ররোচনায় আত্মহনন অথবা তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। যা ময়নাতদন্তের  না আসা পর্যন্ত বলা যাবেনা হত্যা না আত্মহত্যা।

মামলাটি তদন্ত করছেন এস আই মোঃ মঈনুল হোসেন।

Sharing is caring!