চাঁদপুরের শাহরাস্তি পৌরসভার যাত্রা শুরু ১৯৯৮ সালের ১৫ অক্টোবর। প্রতিষ্ঠাকালে গ শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও ২০১২ সালের ১১ জুলাই পৌরসভাটি খ শ্রেণিতে উন্নীত হয়।

পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এর আয়তন ৩০ দশমিক ৪০ বর্গকিলোমিটার। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী এর জনসংখ্যা ৪৮ হাজার ৬৫০ জন। পৌরসভা প্রতিবছর তার নাগরিকদের কাছ থেকে কর আদায়ের ক্ষেত্রে ৮৫ শতাংশ সফল। রাজস্ব আদায় সন্তোষজনক হওয়ায় ২০১৪ সালের মে মাসে এটি ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হয়।

শাহরাস্তি পৌরসভায় ১২টি ওয়ার্ড রয়েছে। শিক্ষার হার ৬৭ শতাংশ। ভোটার সংখ্যা ৩৩,৩১৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৬,৪১৮ জন এবং নারী ভোটার ১৬,৮৯৮ জন।

এ পৌরসভার প্রশাসনিক কার্যক্রম শাহরাস্তি থানার আওতাধীন। এটি জাতীয় সংসদের ২৬৪নং নির্বাচনী এলাকা চাঁদপুর-৫ এর অংশ।

পৌরসভায় বর্তমানে মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি বিশিষ্ট শিল্পপতি আলহাজ¦ আবদুল লতিফ মিয়া। ২০১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোস্তফা কামালকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। এরপর নতুন মেয়ের হিসেবে ২০১৬ সালের ২৮ মার্চ দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমি যখন মেয়র হিসেবে শাহরাস্তি পৌরসভার দায়িত্বভার গ্রহণ করি, তখন রাস্তা ঘাট বলতে কিছুই ছিলনা। পৌরসভার রাস্তা থেকেও গ্রামের রাস্তা অনেক ভালো ছিল। সেই ভঙ্গুর দশা থেকে আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম এমপির সহযোগিতায় পৌরসভার রাস্তা ঘাট আজ খুবই উন্নত।

তিনি বলেন, পৌরসভায় এখন প্রথম শ্রেণির সেবা পাচ্ছে। এক সময় ড্রেন শাহরাস্তি পৌরসভার জন্য স্বপ্ন ছিল তা এখন বাস্তব।

দায়িত্ব পালনের প্রায় পৌনে ৫ বছরে রাস্তাঘাট ও ড্রেন নির্মাণ-সংস্কার, স্ট্রিট লাইটিং সম্প্রসারণ ও পৌর এলাকার সৌন্দর্য বর্ধনসহ অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। তার পরও রয়ে গেছে অনেক সমস্যা। এ জন্য আরো সময় দিতে হবে।

পৌরসভার প্রকৌশলীর কার্যালয়ের সূত্রে জানাযায়, গত সাড়ে ৪ বছরে পৌরসভায় প্রায় ৩৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকার উন্নয়ণমূলক কাজ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পৌরবাসির সুপেয় পানির জন্য প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ওয়াটার ট্রিটম্যান্ট প্ল্যান্ট স্থাপন। যা শিঘ্রই চালু হবে।

ইউজি-৩ থেকে ৮ কোটি ১৫ লাখ ৮৪ হাজার টাকায় প্রায় ২০.১৫ কিলো মিটার সড়ক নির্মাণ ও পুন:নির্মাণ, নগর উন্নয়ণ তহবিল থেকে ৩ কোটি টাকা, জলবায়ু তহবিল থেকে ৫ কোটি টাকা, ২টি পাবলিক টয়লেট ১৪ লাখ টাকা, ৫০টি গভীর নলকুপ ৪৬ লাখ টাকা, হাউজ কালেকশান ৩শটি ১৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকা, এডিবি ও রাজস্ব তহবিল তেকে প্রায় ৩ কোটি ৯১ লাখ টাকার উন্নয়ণ কাজ করা হয়।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল গফর বলেন, বর্তমান মেয়র আলহাজ¦ আবদুল লতিফ দায়িত্ব নেয়ার সময় পৌরসভার ৩টি পাম্প হাউজের মধ্যে ২টিই অকেজো ছিল। বর্তমান মেয়র দায়িত্ব নেয়ার পর এগুলো ঠিক করে পানির সুপেয় পানির সরবরাহ বৃদ্ধি করেছেন। পৌরসভার রাস্তা-ঘাট করে একে উন্নত পৌরসভায় রুপ দিয়েছে।
পৌর মেয়র বলেন, শাহরাস্তি পৌরসভায় শতভাগ সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনি ভাতা পাচ্ছে। দেশে যে কয়টি উপজেলা শতভাগ সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনি উপকার ভোগী ভাতা পাচ্ছে শাহরাস্তি উপজেলাও তার মধ্যে একটি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আমাদের অভিভাবক মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম এমপির সহযোগিতায় শাহরাস্তি পৌরসভাও শতভাগ সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনি (ভাতার) আওতায় আছে। বর্তমানে এ পৌরসভায় মোট ২০৫৬জন ভাতা পাচ্ছে আরো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে ১৭২৭জন।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মান্নান বলেন, পৌর মেয়র আবদুল লতিফ ওয়াটার ট্রিটম্যান্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য তার ব্যক্তিগত ৭৯ শতাংশ ভূমি দান করেছেন। যার বর্তমান বাজার দার প্রায় দেড় কোটি টাকা।

তিনি বলেন, পৌর মেয়র শুধুমাত্র পৌরবাসির উন্নয়ণ ও সুপেয় পানির কথা বিবেচনা করে পৌরবাসির জন্য এ জমি দান করেছেন।

মেয়র আবদুল লতিফ বলেন, নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, যা বলেছি তাই করেছি। মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয়ার সংস্কৃতি আমার নেই। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতির চেয়ে কাজ বেশি করছি। প্রায় ১৪ কোটি টাকার ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট প্রকল্পের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এটির কাজ শেষ হলে পৌরবাসির সুপেয় পানির চাহিদা পূরণ হবে।

তিনি বলেন, পৌরসভা এখন শতভাগ বিদ্যুতায়িত। মাননীয় সংসদ সদস্য মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম এমপি আমাদের অভিভাবক। তিনি আমাদের শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা উপহার দিয়েছেন।

তিনি জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নিরলসভাবেই পরিশ্রম করে যাচ্ছি। এ ক্ষেত্রে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা বরাদ্ধ পেয়েছে। স্বচ্ছতার সহিত টেন্ডারের মাধ্যমে এ কাজ করা হয়েছে। যেহেতু এ অর্থ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল সেহেতু বরাদ্দ আরও বৃদ্ধি পেলে এই সমস্যা শতভাগ সমাধান করতে পারব।

সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে শাহরাস্তি পৌর মেয়র বলেন, শাহরাস্তি পৌরসভাকে এসব অপরাধমুক্ত রাখতে প্রশাসনের সর্বমহলে আলোচনা অব্যাহত রেখে কাজ করছি। এ ক্ষেত্রে আমি অনেকটাই সফল। শাহরাস্তি পৌরসভা শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত বলেও দাবি করেন তিনি।
পৌর মেয়র বলেন, আসন্ন পৌর নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাইলে আবারো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। ইনশাআল্লাহ।

Sharing is caring!