কচুয়া উপজেলায় শিশু ধর্ষণকারী জামাল মিজি (৬০) আজও গ্রেফতার না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের মাত্রা জমাট বেঁধে উঠছে। জামাল মিজি উপজেলার খিল মেহের গ্রামের অধিবাসি। গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিকালে এ জামাল হোসেন মিজির দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয় তারই বাড়ির অধিবাসী এক শিশু। শিশুটি (৮) সম্পর্কে তার নাতিন। সে খিলমেহের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

শিশুটির পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ধর্ষক জামাল মিজি ওই শিশুটিকে ললিপপ খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে বাড়ি থেকে বের করে বাড়ির পাশে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের শিকার শিশুটি রক্তাত্ব অবস্থায় কাঁদতে কাঁদতে ঘরে এসে তার মাকে ঘটনা জানালে তাকে দ্রুত কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি দেখে ওই দিন রাত ১১টার দিকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শিশুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে বলে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আসিবুল আহসান নিশ্চিত করেন। এছাড়াও গাইনি ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা সেবিকা কোহিনুর বেগমও ধর্ষণের শিকার শিশুটির নমুনা সংগ্রহেরপর ধর্ষণের আলামত পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে শিশুটির পিতা বারেক মিয়া কচুয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করে। মামলা নং ১৪। গত ২২ সেপ্টেম্বর শিশুটিকে চাঁদপুর জেলা আদালতের বিজ্ঞ বিচারকের মাধ্যমে ২২ ধারায় শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। ধর্ষণের খবর শুনে কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্থা দীপায়ন দাস শুভ ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মৃনালীনি কর্মকার শিশুটির বাড়িতে গিয়ে শিশুর মুখ থেকে ঘটনার বিবরণ শুনেন এবং আইনের আওতায় এ ঘটনার উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত করণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আশ^াস প্রদান করেন।

এদিকে শিশুটির মা মাহমুদা বেগম ধর্ষক জামাল মিজির পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতিদিনই তাদেরকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে বলে দাবী করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কচুয়া থানার এসআই মামুন জানান, আমি কয়েকদিন হয়েছে মাত্র কচুয়া থানায় যোগদান করেছি। মামলাটি আমার উপর ন্যস্ত করা হলেও চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে শিশুটিকে যে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়েছে সে রিপোর্ট এখনো পাইনি। ওই রিপোর্ট পাওয়ার পরই মামলার কার্যক্রম শুরু করবো।

Sharing is caring!