প্রমত্ত মেঘনা আর বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলরাশির দাপটে ভাঙ্গা-গড়ার খেলায় ভালো নেই নোয়াখালী ও সন্দ্বীপের মাঝামাঝি অবস্থিত উড়িরচরের মানুষ। ভাঙনের কবলে প্রতি বছর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে সেখানকার হাজার হাজার হেক্টর আবাদি জমি ও শত শত বসতবাড়ি।

উড়িরচরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য প্রকৃতিপ্রেমীদের আকৃষ্ট করলেও সেখানকার নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের দিন কাটে চরম আতঙ্কে। অব্যাহত নদী ভাঙন রোধে কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় হতাশ ক্ষতিগ্রস্তরা। মেঘনার ভাঙন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য স্থায়ী ব্লক বা বাঁধ নির্মাণের দাবি স্থানীয়দের।

সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মূল ভুখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা ও সন্দ্বীপের মাঝামাঝিতে উড়ির চর অবস্থিত। ১৯৭০-৭১ সালে সন্দ্বীপের উত্তর-দক্ষিণ ও মেঘনার মোহনায় প্রায় ২৮ কিলোমিটার আয়তনে চরটি জেগে ওঠে। চারদিকে মেঘনা নদী বেষ্টিত চরে জেগে ওঠা ঘাস বা উরি থেকে স্থানীয়রা চরটির নাম দেন উড়িরচর। তখন থেকেই ভূমিহীন মানুষ সেখানে বসবাস শুরু করেন। নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে তারা উড়িরচরে বসবাস করছেন।

দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছরে এই চরের মানুষের জন্য গড়ে ওঠে হাটবাজার, স্কুল, মসজিদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থাপনা। কিন্তু বর্তমানে ছোট হয়ে আসছে উরির চরের আয়তন। গত কয়েক বছর ধরে রাক্ষুসে মেঘনা নদীর ভাঙনের তীব্রতায় এ জনপদে বসতি গড়া মানুষগুলোর নির্ঘুম রাত কাটে। অব্যাহত নদী ভাঙনে সব বিলীন হয়ে যাচ্ছে। চোখের সামনে নিজেদের বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হতে দেখেছেন অনেকে। প্রতিদিন নদীর তীর থেকে বসতঘর সরিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন অসহায়রা।

স্থানীয়রা জানান, ১৯৮৫ ও ১৯৯১ সালে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে এই চরে ব্যাপক ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটে। পরবর্তীতে সিডর, আইলা, মহাসেন, হুদহুদ, নার্গিস, রোয়ানু, আম্ফানসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে এখানকার মানুষ বসবাস করে আসছে। কিন্তু মেঘনা নদীর ভাঙনে ইত্যেমধ্যে এ চরের তিনটি ওয়ার্ডসহ অসংখ্য স্থাপনা উরির চরের মানচিত্র থেকে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। একেকজনের তিন থেকে চারবার বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় তারা এখন নিঃস্ব। নদী ভাঙনে সব হারা এসব মানুষের এখন একটাই চাওয়া- অন্তত ভাঙন রোধে ব্লক ফেলা হোক।

উরিরচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, উড়িরচর রক্ষায় ২০১৫ সালে সরকারের পক্ষ থেকে একটি বড় ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও সেটি কোনো এক রহস্যজনক কারণে বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

উরিরচর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুর রহিম মেঘনার ভয়াবহ ভাঙন রোধে উড়িরচরের হাজার হাজার একর জমি ও বসতি রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, ভাঙ্গন রোধে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের চরএলাহী-উরিরচর একটি অংশে নদীর তীর রক্ষায় ১৬ কিলোমিটার ব্লক ফেলার কাজ চলছে। এছাড়াও উড়িরচর-সুবর্ণচর নোয়াখালী চ্যানেলে একটি ক্রসড্যাম নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ক্রসড্যাম বাস্তবায়ন হলে এ জনপদের নদী ভাঙ্গন রোধ করা সম্ভব হবে।

Sharing is caring!