চলতি বছরের ডিসেম্বরে হাজীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতমধ্যে নির্বাচন কমিশন এমন ইঙ্গিত প্রদান করেছে। নির্বাচন কমিশনের এমন ইঙ্গিতের পর পরই হাজীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দু’দল থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ও তাদের কর্মী সমর্থকবৃন্দ স্ব-স্ব প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। হাজীগঞ্জ বাজারে বিভিন্ন স্থানে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বিলবোর্ড ও ব্যানার দেখা গেছে। আবার কোন কোন প্রার্থীর সমর্থকবৃন্দ ফেইসবুকে তার প্রার্থীর পক্ষে সরব প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

হাজীগঞ্জ পৌরসভা-২০২০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে হাফ ডজন প্রার্থী মনোনয়নের জন্য লবিং করে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছে বর্তমান মেয়র আ স ম মাহবুব-উল আলম লিপন। তিনি বরাবরের মতোই মাঠের কর্মী। পৌরসভায় গত প্রায় ৫ বছর ধরে মেয়রের দায়িত্বে রয়েছে। স্বচ্ছতা-জবাব দিহিতার মধ্য দিয়ে পৌরসভায় কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি আবারো মেয়র পদে মনোনয়ন চাইবে।

এ ছাড়াও মনোয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে মনোনয়নের জন্য লবিং করছেন হাজীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক পৌর চেয়ারম্যান এবং উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আবদুর রশিদ মজুমদার, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ রোটা. আহসান হাবিব অরুন, হাজীগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আলহাজ¦ সৈয়দ আহমদ খসরু, পৌর যুবলীগের আহবায়ক ও বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হায়দার পারভেজ সুজন, সজিব ওয়াজেদ জয় পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আলী আশ্রাফ, পৌর মহিলা আওয়ামী লীগের সভা নেত্রী ফেরদৌসী আক্তার।

বিএনপিতে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, সাবেক দু’বারের মেয়র ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ¦ আবদুল মান্নান, গত নির্বাচনে নির্বাচন করা স্বতন্ত্র প্রার্থী, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মো. হেলালউদ্দিন মজুমদারও এবার বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনিও প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী আলহাজ¦ আবদুল মান্নান খান ও মো. হেলালউদ্দিনের পক্ষে তার কর্মী-সমর্থকবৃন্দ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

আসন্ন পৌর নির্বাচনে দলের ত্যাগীদের মূল্যায়ন করবে আওয়ামী লীগ। সে নির্দেশনা দলীয় হাইকমান্ড থেকে প্রদান করা হয়েছে বলে জানান দলের একাধীক শীর্ষ নেতা।

করোনাভাইরাসের ধাক্কা শেষ না হতেই নির্বাচনী ব্যস্ততা বেড়েছে আওয়ামী লীগে। ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় সারা দেশের পৌরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে দলটি।

তবে দলীয় না জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে- তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তফসিল ঘোষণার পর জোটের বৈঠকে এটি চূড়ান্ত করা হবে। যদিও এ মুহূর্তে দলীয়ভাবেই যাবতীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্ষমতাসীনরা।

পাশাপাশি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিকরাও পিছিয়ে নেই। আলাদাভাবে প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে জোটভুক্ত দলগুলো।

তবে জোটগত বা দলীয়ভাবে যেটিই হোক না কেন- প্রার্থী মনোনয়নে তৃণমূলের জনপ্রিয়, ত্যাগী এবং দায়িত্ব পালনে সক্ষম- এমন নেতাদের মনোনয়ন দেয়া হবে এমনটি নিশ্চিত করেছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত সময়ের মতো এবারও স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে সারা দেশে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর ছড়াছড়ি। বিভিন্নভাবে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন তারা।

পোস্টার-ব্যানারের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সরব মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। স্থানীয় দলীয় সংসদ সদস্য ও নেতাকর্মীদের সঙ্গেও সখ্য বাড়ানোর চেষ্টা করছেন তারা। মনোনয়নের আশায় দৌড়-ঝাঁপ শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় নেতা-মন্ত্রীদের বাসা-অফিসেও।

পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে প্রতিটির বিপরীতে অন্তত ৩ থেকে ৫ জন দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী বিভিন্নভাবে প্রচারণা শুরু করেছেন।

ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকারসহ সব নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। করোনাভাইরাসের মহামারীর মধ্যেই শুরু হচ্ছে তৃণমূলে নির্বাচনী হাওয়া। দীর্ঘদিন জিমিয়ে থাকা বিএনপিতে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য।

জাতীয় সংসদের উপনির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয়ভাবে প্রার্থী চূড়ান্ত করবে দলটি। এক্ষেত্রে ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মতামত নেয়ার সম্ভাবনা কম।

তবে ভোটের মাঠে জোটগতভাবে অংশ নেবে দলটি। ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করবে জোট ও ফ্রন্টের নেতারা।
এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণার পর বিএনপির তৃণমূলে চাঙ্গাভাব সৃষ্টি হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকেই মাঠে নেমে পড়েছেন। করোনাভাইরাস উপেক্ষা করে দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শুরু করেছেন তারা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ নানা উপায়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন। দলীয় মনোনয়ন পেতে অনেকে কেন্দ্রের সঙ্গেও যোগাযোগ শুরু করেছেন। কেন্দ্রীয়ভাবেও নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে যারা ত্যাগী, তাদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।

বিএনপি নেতারা বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যেও একটা চাঙ্গাভাব তৈরি হবে। সাংগঠনিকভাবে দলে গতি আসবে। সবকিছু বিবেচনা করেই নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেন, গণতান্ত্রিক দল হিসেবে আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তবে সেটা দলীয় না জোটগতভাবে করব, সেই সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার পর এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

Sharing is caring!