গভীর দুঃখের সঙ্গেঁ জানাচ্ছি শোক সংবাদ, মকিমাবাদ মিয়া বাড়ি নিবাসি জাতির জনক বঙ্গঁবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, প্রাক্তন জাতীয় সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য, চাঁদপুর জেলা আওয়ামীলীগের প্রাক্তন সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, আওয়ামীলীগ ও অঙ্গঁ-সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতা কর্মী সমর্থকদের সততা, নিষ্ঠা, একাগ্রতা, সাহসীকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা, জনকল্যানে আত্ম নিয়োগ, আন্দোলন সংগ্রাম জেল জুলুম অত্যাচারের বিরুদ্ধে পবর্বত সমান প্রেরনা, প্রয়াত আবদুর রব মিয়ার প্রাণ প্রিয় সহধর্মীনি বেগম মোহসেনা রব (৮২) অদ্য বেলা ১২.১৫ ঘটিকায় ঢাকা গ্রীন লাইফ হাসপাতালে বাধ্যক্য জনিত কারনে পরোলোকগমন করিয়াছেন।

বেগম মোহসেনা রব ছিলেন প্রয়াত এমপি আবদুর রব মিয়ার রাজনীতি, সমাজিক কর্মকান্ড, ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান, আন্দোলন সংগ্রামের বিশ^স্ত বন্ধু। রব সাহেবের জাতির জনকের নেতৃত্বে পশ্চিম পাকিস্তানি শাষক গোষ্ঠির বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম, অসাম্প্রদায়িক চেতনায় মহান ম্ুিক্তযুদ্ধ, ১৫ই আগষ্ট জাতির জনককে হত্যার প্রতিবাদে আবদুর রবের গর্জে উঠার প্রথম সাহসী চেতনা ছিলো মোহসেনা রব।

স্বামী আবদুর রব জেল জুলুম হুলিয়া নিয়ে জীবন সংগ্রামী এ আবস্থায়ই স্বচ্ছল পরিবারের সন্তান মোহসেনা রব বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। আজীবন সংগ্রামী রব সাহেব সচ্ছল ধনাঢ্য পরিবারে জম্মগ্রহণ করলেও সংগঠনিক কর্মকান্ড পরিচালনা করতে গিয়ে নিজের পরিবারের সচ্ছলতা ধরে রাখতে পারেননি।

চাঁদপুর মহিলা কলেজের পশ্চিম পাশে ছোট একটি ভূমিতে দোচালা মুলির বেড়ার ঘরে জীবন কাটিয়েছেন। প্রয়াত মোহসেনা রব স্বামী আবদুর রবের এই অসচ্ছলতার জন্য কোন দিন কোন অভিযোগ করেননি। সদা হাস্যেজ্জল মোহসেনা রব সংগঠনের কর্মীদের কাছে ছিলেন মায়ের মতো, কর্মীদেরকে তিনি মাতৃস্নেহে বন্ধুর মতো আদর যত্ন করতেন, সাহস যোগাতেন স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে, জননেত্রী, দেশরত্ন, বিশ^ মানবতার ‘মা’ শেখ হাসিনার সকল নির্দেশ বাস্তবায়নের।

মোহসেনা রব প্রিয় স্বামী রব সাহেবের কাছে খোজ খবর রাখতেন কোন কর্মী জেলে কার বিরুদ্ধে কত মামলা, কর্মীদেরকে জেল থেকে বের করার জন্য মামলা থেকে মুক্ত করার জন্য তাদের পরিবার পরিজনদের খোজঁ খবর নেওয়ার জন্য পরামর্শ দিতেন। রব সাহেব চাঁদপুর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি থাকা অবস্থায় একদিন সকালে ভাবিকে (প্রয়াত মোহসেনা রবকে) কিছু টাকা দিলেন বাসার বাজার করতে কিছুক্ষণ পর আওয়ামীলীগের কয়েকজন কর্মী এলো সংগঠনের প্রোগামের জন্য শহরে মাইকিং করতে হবে রব ভাই ভাবী (প্রয়াত মোহসেনা রবকে) ডেকে বললো তোমাকে বাসার বাজার করতে যে টাকা দিয়েছি টাকাটা দাও, টাকাটা নিয়ে রব ভাই কর্মীদের দিয়ে বললো যাও পুরো চাঁদপুর শহরে সংগঠনের মাইকিং কর প্রচার কর, দুপুরে রব ভাই খেতে বসে দেখেন খাসির মাংস আর পলাও রান্না করা হয়েছে। তিনি ভাবীকে বললেন আমরা বাজার করতে না পারলে কি হবে পলাও এবং খাসির মাংস খাই। (ভাবীর সামান্য জমানো টাকায় খাসির মাংস ও পলাও রান্না হয়েছিলো।

বাসায় প্রতিদিন কর্মীদের উপস্থিতি ছিলো শত অভাবের মধ্যেও হাসি মুখে প্রয়াত মোহসেনা রব সকলকে আদর আপ্যায়ন করে গেছেন।

৬ পুত্র ৩ কন্যা সন্তানের জননী মোহসেনা রবের জীবন কেটেছে সততা, আন্তরিকতা, আতিথেয়তার মধ্য দিয়ে নিজের সন্তানদেরকে বড় করেছেন ভদ্র, সভ্য, শিক্ষা দিক্ষায় অপরকে সম্মান জানানোর বুদ্ধিমত্তা দিয়ে।

আমি যখন ২য় বার চাঁদপুর জেলে বন্দি তখন এক দিন রব ভাই জোহরের নামাজের পর চাঁদপুর জেলে আমাকে দেখতে গেলেন। আমি জেনে জেলার সাহেবের অফিসে ছুটে যাই প্রিয় নেতাকে সালাম জানানোর পর তিনি আমার কুশল জিজ্ঞাসা করলেন। জেলে আসার সময় রব ভাই আমার জন্য বিভিন্ন ফল, বিস্কিট, চানাচুর আরো অনেক কিছু নিয়ে এসে ছিলেন তিনি আমাকে বললেন আপনার ভাবি (প্রয়াত মোহসেনা রব) আপনাকে জেল থেকে বের করার জন্য প্রতিদিন শুধু আমাকে জ¦ালাতন করে গতকাল বলাখালের জনসভায় (রব সাহেবের জীবনের শেষ সভা) বলেছি আজকে যদি আপনাকে মুক্তি না দেয় তাহলে চাঁদপুর জেলা অচল করে দেবো।

যদি জেলের লোকজন আপনাকে ছেড়ে দেয় তাহলে হাজীগঞ্জ যাওয়ার আগে আপনার ভাবির (প্রয়াত মোহসেনা রব) সাথে দেখা করে যাইয়েন। আমি তখন বুঝেছিলাম আজ আমি মুক্তি পাবো, ঐ দিনই মুক্তি পাই, মুক্তি পেয়ে রব ভাইয়ের চাঁদপুর মহিলা কলেজের সম্মুখের বাসায় ছুটে যাই গিয়ে ভাবিকে সালাম করি ভাবি মাতৃস্নেহে আমাকে অনেক স্নেহ করেন সাহস দেন। আজকে আমাদের প্রিয় নেতা রব ভাইয়ের প্রিয়তমা স্ত্রী বেগম মোহসেনা রব চলে গেলেন আমার অনেক দায় দায়িত্ব থাকার পরেও তাদের মত অন্য যে সকল শ্রদ্ধেয় নেতা, কর্মী, সমর্থকবৃন্দ প্রয়াত হয়েছেন কারও জন্য আমার দায়িত্বটুকু পালন করতে পারিনি এজন্য আমি ক্ষমা প্রার্থী। প্রিয় রব ভাই প্রিয় ভাবি (বেগম মোহসেনা রব) প্রিয় প্রয়াত নেতৃবৃন্দ আজ আপনাদের কাছে শপথ নিয়ে বলি সময় সব সময় একরকম যায় না যদি সংগঠনিক ভাবে চলার সুযোগ হয় তাহলে আপনাদের সকলকে স্মরণ করা, শ্রদ্ধা করা, আপনাদের রেখে যাওয়া পরিবার পরিজনদের সম্মান জানানো হবে আমার প্রথম কাজ।

পরিশেষে আজকের এই শোকের দিনে প্রয়াত রব ভাইয়ের (প্রাক্তন এম পি) প্রিয়তমা স্ত্রী মহীষসী নারী প্রয়াত বেগম মোহসেনা রবের বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই, পরম দয়ালু বিধাতার কাছে তার আত্মার শান্তি কামনা করি, প্রার্থনা করি বাংলাদেশের ঘরে ঘরে প্রয়াত বেগম মোহসেনা রবের মত মহীষসী নারীদের যেন জম্ম হয়। আজকের এই দিনে আমি ভীষন মর্মাহত, ব্যাথিত অনেক যন্ত্রনা ব্যাথা নিয়ে প্রিয় অনেক ভালবাসার, শ্রদ্ধার মানুষকে হারিয়ে আমার বিষন্ন জীবন ছুটে চলেছে, এরপরেও যতদিন বেঁচে আছি রব ভাইযের চিন্তা চেতনায় নীতিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে জননেত্রী মাননীয় প্রধান মন্ত্রী বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ হাসিনা এম.পির নেতৃত্বে সুখী সুন্দর সোনার বাংলা বিনির্মানে সংগঠনের সকলের সাথে একযোগে কাজ করে যাবো, তাহলেই প্রয়াত মোহসেনা রবের কষ্টের জীবন সার্থক হবে, প্রয়াত মোহসেনা রব সহ আমাদের থেকে পরোলোকে চলে যাওয়া সকলের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি।

সত্যব্রত ভদ্র (মিঠুন ভদ্র)

প্রাক্তন সভাপতি হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ ১৯৯২ ইং

হাজীগঞ্জ, চাঁদপুুর।

Sharing is caring!