তিনি ছিলেন সোনার মানুষ
হাসি – ভরা মুখ
তাঁকে দেখলে শত বাজ্ঞালির
গর্বে ভরতো বুক।

তিনি ছিলেন রাখাল রাজা
সবার আপনজন
তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধু
সাতরাজার প্রিয় ধন।

তিনি ছিলেন বাংলাদেশ
করতেন সবার উপকার
তিনি ছিলেন জাতিরজনক
সোনার বাংলার রূপকার।

দল মত ভুলে মনে রাখতে হবে একটি ফুটবল টিমের যেমন  একজন অধিনায়ক থাকেন, তার নেতৃত্বে বাকি খেলোয়াড়েরা খেলে থাকে ঠিক তেমনিভাবে  একটি দেশকে পরাধীনতার হাত থেকে মুক্ত করতে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু নিরলসভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন   কাজ করেছেন, জেল, জুলুম সহ্য করেছেন,একি সাথে আরও অনেকেই জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর সাথে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌম রক্ষার্থে  জেল খেটেছেন, জীবন দিয়েছেন।  ১১ টি সেক্টর কমান্ডারদের নেতৃত্বে দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছেন
সেই সকল বীর শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।

দেশের সর্বাধিনায়ক জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর কথা লিখে শেষ করা যাবেনা,  বাংলার মহানায়ক ছিলেন একটি দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি, পররাষ্ট্রনিতি, কুটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলে নিজের দেশের উন্নয়ন, বেকারত্ব সমস্যা সমাধান, ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে তিনি কাজ করেছেন।

জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর চলাফেরা, কথা বার্তা,  পোশাক, চোখের চশমা সব কিছুই যেন নিজস্বতায় অন্যের চাইতে ভিন্ন। লক্ষ কোটি জনতার মধ্য থেকেও জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুকে খুঁজে আনা সম্ভব। নেতার চোখের চশমাটির কথা ভুলতে পারছিনা,মনে হয় এমন চশমা উনার জন্যই বানানো হয়েছে।

এমন নিখুঁত পতাকার মাপে, মানচিত্রের মাপে
আশ্চর্য চশমা, আমি দেখিনি কোনোদিন বঙ্গবন্ধু
তোমার চশমাটি ঘিরে এক অদ্ভূত লোভ
ইদানিং লোভাতুর হতে বাধ্য করেছে আমাকে
ওটি আমার চাই-ই, চাই

আমার এ সামান্য চোখে কী বিশাল দৃষ্টিহীনতা,

তোমার চোখে একবার দেখতে চাই
আজন্ম রূপ-ঈশ্বরী জননী আমার, সোনার বাংলা
সকাল, বিকেল, দুপুর কী রাত্রি, অবারিত প্রেম
সুগন্ধ আঙিনা আমার-রক্তপ্লাবনে ভাসে আজো
আজো শস্যগন্ধা মৃত্তিকার বুক চষে দাঁতাল শুয়োর

আমার এই চোখ, এই দৃষ্টি, এই অন্তর
পোড়ে না, কাঁদে না, নাকি দেখে না তার কিছু
পিতা, তোমার চোখ ছোঁয়া হয়নি কখনো আমার
এমন দিগন্তজোড়া চশমা কোথায় পাবো, আমি!

তোমার জীবনের সুতোয় বোনা এই স্বদেশ
সেলাই ছিঁড়ে-ছিঁড়ে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করছে যারা
তাদের মুখোশের চেয়ে সুরত যতো দীর্ঘ
সে সব আর দৃশ্যত নয় আমােদর এই সাধারণ চোখে

তোমার দৃষ্টি দাও, পিতা; নয় তো দাও সেই চশমা
যার কাচদু’টি ধরে আছে আমৃত্যু কান্নার দাগ
যার ফ্রেমে জড়িয়ে আছে আনন্দে-বেদনায়
ক্ষুধা ও তৃপ্তিতে-এই বাংলার মায়াময় ধুলোবালি

বঙ্গবন্ধু তোমার চশমাটি ঘিরে এক অদ্ভূত লোভ
ইদানিং লোভাতুর হতে বাধ্য করেছে আমাকে
অথচ কি আশ্চর্য! কতটা অভাগা আমি
তোমার সেই আশ্চর্য চশমাটির লেন্সের পাওয়ার-
আমার জানাই নেই!

১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে কলংকিত করেছে হায়েনার দল, কলংকিত করেছে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে।  তারা ভেবে ছিল বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেই মুছে যাবে তার নাম, তারা ভুলে গেছে বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ।

পাপ যেমন তার বাপকেও ক্ষমা করেনা, তেমনি জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর ক্ষুনিদের ক্ষমা করা যায়না, তাদের হত্যার মধ্য দিয়েই কলংকমুক্ত হবে বাংলাদেশ।

সবশেষে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু সহ সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি,  মহান আল্লাহ সবাইকে জান্নাতবাসী করুন।

আমি একজন ক্ষুদ্র লেখক আমার  লেখায় কোথাও  ভুল হলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন প্রিয় পাঠক।

লেখক পরিচিতি – সাংবাদিক, নাট্যকার, টেলিভিশন অভিনেতা, কবি ও লেখক।

Sharing is caring!