করোনা পরিস্থিতিতে চাঁদপুর জেলার ৮ উপজেলায় সামর্থবান অনেকেই আল্লাহর নামে পশু কোরবানি করেছেন। কিন্তু কোরবানির পশু গরু ও ছাগলের চামড়া ক্রয় করার জন্য বাসা বাড়িতে কোন ক্রেতা আসেনি। বাধ্য হয়ে লোকজন এসব চামড়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় যোগাযোগ করে দান করেছেন। আবার মাদ্রাসার পক্ষে কেউ কেউ চামড়া ক্রয় করতে গেলেও দাম বলেছেন ৫০-১শ’ টাকা। ছাগলের ছামড়ার কোন ক্রেতাই নেই। তবে মাদ্রাসা ও এতিমখানা কর্তৃপক্ষ থেকে চামড়া ক্রয় করেছেন পাইকারী ব্যবসায়ীরা।

শনিবার (০১ আগষ্ট) সন্ধ্যায় চাঁদপুর শহরের পালবাজার চামড়ার পাইকারী আড়তে গিয়ে দেখাগেছে চামড়ার বড় বড় স্তুপ। সেখানে শহরের সকল ছামড়া ক্রয় করার জন্য রয়েছেন ৫জন ব্যবসায়ী। তারাই সকল ছামড়া আজ থেকে আগামী ৩দিন ক্রয় করবেন বলে জানিয়েছেন।

শহরের মাদ্রাসা রোডের বাসিন্দা মিজানুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, কোরবানির জন্য তিনি ৭৪ হাজার টাকা দিয়ে গরু ক্রয় করেছেন। কোরবানি শেষে সন্ধ্যা পর্যন্ত চামড়া ক্রয় করতে কেউ আসেনি। বাধ্য হয়ে সন্ধ্যায় বাসস্ট্যান্ড মাদ্রাসা ও এতিমখানায় সংবাদ দিয়ে চামড়াটি দান করে দেন।

শহরের নিউ ট্রাক রোডের বাসিন্দা জহির শেখ বলেন, তার পশুর চামড়া ক্রয় করার জন্য কেউ আসেনি। তিনি ওই চামড়া বাগাদী ইসলামপুর গাছতলা মাদ্রাসায় দান করেছেন।

হাজীগঞ্জের কয়েকজন কোরবানিদাকতার সাথে আলাপ করলে তারা জানান, এ বছর খুচরা কোন চামড়া বিক্রেতা মাঠে ছিলো না। যার কারণে হাজীগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় চামড়া বিক্রয় করতে না পেরে অনেকে মাদরাসায় দান করে দিয়েছে।

চাঁদপুর সদর উপজেলার মৈশাদী এলাকার বাসিন্দা ঝন্টু পাটওয়ারী বলেন, তারা দু’টি গরু কোরবানি দিয়েছেন। দু’টি চামড়া একজন ক্রেতা ১শ’ টাকা করে ২শ’ টাকা মূল্য দিতে চেয়েছেন। পরে তিনি বিক্রি না করে মাদ্রাসায় দান করে দিয়েছেন।

এদিকে, জেলার কচুয়া, শাহরাস্তি, মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ, ফরিদগঞ্জ, হাইমচর ও হাজীগঞ্জ উপজেলায় লোকজনের সাথে আলাপ করে জানাগেছে, শহর ও সদর এলাকার মতই অবস্থা উপজেলাগুলোতে। খুচরা বিক্রেতারা মাঠে না থাকায় অধিকাংশ মানুুষই মাদ্রাসা ও এতিমখানায় চামড়া দান করেছেন।

চাঁদপুর শহরের পালবাজারের চামড়া ব্যবসায়ী মো. জহির হোসেন বলেন, এ বছর কোন খুচরা বিক্রেতা চামড়া ক্রয় করার জন্য মাঠে নামেনি। যার কারণে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের লোকজন তাদের কাছে একত্রিত করে এনে চামড়া বিক্রি করেছেন। তিনি বড় চামড়া ক্রয় করেছেন ৭শ’ টাকা দরে এবং মাঝারি সাইজের চামড়া ক্রয় করেছেন ৩শ’ থেকে সাড়ে ৩শ’ টাকা দরে।

কই বাজারের আরেক চামড়া ব্যবসায়ী আকবর গাজী বলেন, এ বছর চামড়ার ভাল দামে পেয়েছেন। যদি ঢাকার বড় ব্যবসায়ীরা তাদের সাথে কোন ধরণের সিন্ডিকেট তৈরী না করে নগদ মূল্য পরিশোধ করে, তাহলে সব খরচ মিলিয়ে তাদের কোন লোকসান হবে না। কারণ ঢাকায় ৩০ লাখ টাকার চামড়া দিলে ৫ লাখ দিয়ে ২৫ লাখই বাকী রাখে।

Sharing is caring!