‘ও বান্ধব কইয়াদে বালাকে’ কথাটি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের ফুলছোঁয়া গ্রামের প্রয়াত চারণ কবি শামসুল হক মোল্লার রচয়িত একটি কবিতার লাইন। চারণ কবি শামসুল হক মোল্লা ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমানের অত্যন্ত ¯েœহধন্য। স্বাধীনতার পূর্ববর্তী সময়ে ও পরবর্তী সময়ে তিনি যখন চাঁদপুরে আসছিলেন সেই মঞ্চে কবিতা আবৃতি করতেন চারণ কবি শামসুল হক মোল্লা। তার কবিতাটির কিছু কথা এখনো মানুষের অন্তরে দাগ কাটে। তার কবিতার অনেক অর্থই কবিতার ভাষার মাঝে লুকায়িত ছিল।

চারণ কবি শামসুল হক মোল্লা ছিলেন হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সদস্য। বৃদ্ধ বয়সেও তার কথার ক্ষুরধার ছিল অমায়িক।

২০০৪ সালে হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সিনিয়র নেতৃবৃন্দদের সাথে নিয়ে আমরা একদল নবীন-প্রবীণ সাংবাদিক কবির শেষ সময়ে তাকে দেখতে গিয়েছিলাম। সেই সময় কবি একটি কবিতার কিয়াদাংশ আমাদের পাঠ করে শুনিয়েছিলেন ‘ভাত দে না হয়, তোরে খাবো।’ তার আবৃত্তির কৌশল আমাকের মুগ্ধ করেছিল। বৃদ্ধ বয়সেও একটি লোক কিভাবে পারে। যাহোক এ চারণ কবি ২০০৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

কবির কবিতাটি পড়ে যা বুঝলাম। এ জগতে কেউ ভালো নয়। ১৮ হাজার মাখলুকাতের মধ্যে মানুষ আসরাফুল মাখলুকাত। মাটির সৃষ্টি জ্ঞানগর্ব মানুষ আজ টাকার তৈরী কাগজের পেছনে দৌঁড়াচ্ছে।

পিয়ন থেকে শুরু করে, আমলা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক সবাইকে আজ টাকার লোভে ধরেছে। বৈশি^ক মহামারি করোনাকে পুঁজি করে অনেকে বনে গেছে শত শত কোটি টাকার মালিক। কোভিড-১৯ (করোনা ভাইরাস) যেখানে হাজার হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করছে। সেখানে বাংলাদেশের কিছু লোভ ডাক্তার, ব্যবসায়ী আর আমলারা মিলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

আবার অনেক মিডিয়া রাস্তা থেকে ধরে এনে কাউকে কাউকে টকশোর মাধ্যমে রাতারাতি তারকা খ্যাতির তকমা লাগিয়ে দিচ্ছে।

চারণ কবি শামসুল হক মোল্লা যে, কবিতা লিখেছেন ‘ও বান্ধব কইয়াদে বালাকে’। আসলে ভদ্রতার আড়ালে কে ভালো, আর কে মন্দ বুঝাটা বড়ই মুশকিল।

কিছু লোক সরকারী দলের লেবাস লাগিয়ে, রাতারাতি কোটি কোটিপতি হয়ে যাচ্ছে। তারা স্বাস্থ্যখাত, নির্মাণ খাত, স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
অনেক আমলা ও রাজনৈতিক নেতারা তাদের আখের গোছানোর জন্য এসব দুর্নীবাজদের সৃষ্টি করেছে।

স¤্রাট, পাপিয়া, জিকে শামিম, সাহেদ, সাবরিনা, মিঠু এতে সর্বশেষ সংযোজন হয়েছে নকল এন-৯৫ মাস্ক সরবরাহকারী ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সহকারি রেজিস্টার শারমিন। এদের সবার উদ্দেশ্য একটাই। হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়ে বর্হিবিশে^ দেশকে লুটেরা হিসেবে পরিচিত করো। আসলে এদের দ্বারা এমন কাজ করা সম্ভব নয়, যদি না এদের পেছনে আমলা বা কোন বড় রাজনৈতিক নেতার ছায়া না থাকে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার অক্লান্ত পরিশ্রমে যখন বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে, তখনই প্রশাসনের মধ্যে ঘাপটি মেরে বসে থাকা সেই বিএনপি-জামায়াত পন্থি আমলারা সাথে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারির দেশের জন্য ভয়ংকর হয়ে উঠছে। এদের উদ্দেশ্য একটই দেশকে বর্হিবিশে^ দুর্নীতিরবাজ হিসেবে দাঁড় করানো। এরা মুলত; ৭১ এর পরাজিত শক্তির প্রেতআত্মা।

স্বাস্থ্যখাতে নানা অনিয়মের অভিযোগে বিতর্কিত ডিজি আবুল কালাম আজাদের পদত্যাগের পর অধিদফতর ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

এরই ধারাবাহিকতায় একের পর এক আসছে পরিবর্তন। করোনা মহামারী মোকাবিলায় শুরু থেকেই প্রশ্নের মুখে পড়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর। কোভিড পরীক্ষা থেকে শুরু করে চিকিৎসার সব ক্ষেত্রেই ব্যর্থতার পাল্লাই ভারী সংস্থাটির। এর মধ্যে আসতে থাকে স্বাস্থ্য ডিজি আবুল কালাম আজাদের নানা অনিয়ম ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তের খতিয়ান। দাবি ওঠে তার পদত্যাগের।

রিজেন্ট, জেকেজি ও সাহাবুদ্দিন মেডিকেল কেলেঙ্কারির ঘটনায় নানা মহলের সমালোচনার মুখে মঙ্গলবার পদত্যাগপত্র জমা দেন বিতর্কিত ডিজি আজাদ।

তবে বিশেজ্ঞদের ধারণা ডিজির একার পক্ষে এতো বড় অনিয়ম করা সম্ভব নয়। তার সাথে মন্ত্রণালয়ের আরো অনেকেই জড়িত রয়েছে।

চারণ কবি শামসুল হক মোল্লার ‘ও বান্ধব কইয়াদে বালাকে’ কবিতায় কবি বলতে চেয়েছেন বন্ধুরে কেউ ভালো নই। সুযোগ পেলে সবাই আকাম-কুকামে লিপ্ত থাকে।

লেখক,
মো. মহিউদ্দিন আল আজাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক-নতুনেরকথা
পরিচালক, সাপ্তাহিক হাজীগঞ্জ
সভাপতি (ইলেক্টেড), হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাব,
সাধারণ সম্পাদক, নিরাপদ সড়ক, হাজীগঞ্জ উপজেলা শাখা।

Sharing is caring!