সততাই কাল হলো কচুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রনেতা ৯০এর এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের পুরোহিত শাহজাহান শিশিরের জন্য।

সততা ও আমলাতন্ত্রের বলির পাঠা হলেন তিনি। গত কয়েক দিন ধরে তার বিরুদ্ধে মামলা সংক্রান্ত নিয়ে ফেইসবুকে লেখা-লেখি হচ্ছে ফেইসবুক থেকে পাঠকদের উদ্দেশ্যে কয়েকটি লেখা তুলে ধরলাম।

Isteak Ahamed Sharif  -নামে এক ফেইসবুক ইউসার লিখেছেন

শিশির ভাই গত নির্বাচনের আগে খুব চিন্তিত, আমাকে ফোন দিয়ে বললো ৩/এ পার্টি অফিসে আস। গিয়ে বললাম কি হয়েছে? পার্টি অফিসের সাথে ফুটে বসে বাদাম খাচ্ছে। বললো জেলা, উপজেলা ৪/৫ টা নাম কেন্দ্রে পাঠাইছে, আমার নাম নেই। বললাম, চিন্তা করার দরকার নেই। আপনি রানিং উপজেলা চেয়ারম্যান, কোথাও যেহেতু আপনার নাম দেয়নি ; তাহলে এটা আপনার জন্য সুবিধা। আপনি নেত্রীর সাথে দেখা করেন, অনেকের সাথে দেখা করেছেন কিন্তু লাভ তো কিছু হয়নি।

আরো পড়ুন: কচুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শিশির বরখাস্ত

যে কথা সে কাজ, নেত্রীর সাথে দেখা করার সুযোগ হলো শিশির ভাইয়ের। নেত্রীর সাথে দেখা করার পর গণভবনের সামনে ভাই খুব খুশি। বললাম ভাই নেত্রী কি বললো? ভাই বললো নেত্রী বলছে এলাকায় চলে যেতে, নমিনেশন আমাকেই দিবে। বললাম কি এমন বললেন যে নেত্রী এত তাড়াতাড়ি আপনাকে নমিনেশন দিয়ে দিলো? নেত্রীকে শুধু আমি ১/১১ এর একটি কথা বললাম যে আপা আমি হলাম সে শিশির যখন আপনার ৩/এ ধানমন্ডি পার্টি অফিস মুকুল বোস, খ.ম জাহাঙ্গীর সহ সংস্কারপন্থীরা দখল করার চেষ্টা করেছিলো; তখন আমি একা শিশির ইউনিভার্সিটি থেকে পোলাপান এনে তাদের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিই। এছাড়া ৯০ দশক, জোট সরকারের আমলের কিছু কথা বলি আমার মায়ের অপারেশনের জন্য জোট সরকারের আমলে ৫০,০০০ টাকা দেন আপনি। নেত্রী বলে নেত্রীর সব মনে আছে।

আরো পড়ুন:কচুয়া উপজেলা চেয়ারম্যানের হামলার শিকার শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী

আপনার মুখ থেকে দুঃসময়ের অনেক গল্প শুনেছি, আপনার সততা, নীতি, আদর্শ আমাকে ছোট বেলায় থেকে অনুপ্রাণিত করেছে। আপনি দুইবার উপজেলা চেয়ারম্যান, দুইবারই আপনার জন্য সর্বোচ্চ করেছি। বিনিময়ে কখনো কিছু চায়নি, নির্বাচনের পর কচুয়া গিয়ে কখনো মাতবরিও করেনি। আমি জানি আপনি নিজেই অস্বচ্ছলতার মধ্যে আছেন, ভাবীর চাকরির টাকায় আপনার সংসার চলে। গত ছয় বছরে আপনি প্রায় পুরোটাই সময়ই কচুয়ায় ছিলেন, পরিবার যে আছে সেটাই ভুলে গেছেন। আপনার পাশে সবসময়ই থেকেছি আপনার সততার জন্য, নীতি আদর্শের জন্য।

আরো পড়ুন: কচুয়া উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সুলতানা খানম

আপনার মত দুঃসময়ের নেতাকর্মীদের বপন করা বীজের ফসল খাচ্ছে আজ কিছু সুবিধাবাদী হাইব্রিডরা। যাদের কখনো দুঃসময়ে দেখা যায়নি।

মন খারাপ করবেন না ভাই, তারা যতই আপনাকে জনগণ থেকে দূরে সরানোর চেষ্টা করছে, ততই আপনি জনগণের কাছে চলে যাচ্ছেন।

Sharing is caring!