চাঁদপুর মাজহারুল হক বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালটি ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠার পর ১৯৮৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারী থেকে চক্ষু চিকিৎসায় ব্যাপক ভুমিকা পালন করে আসছে। এই হাসপাতালের পারিচালনা পর্ষদ, চিকিৎসক, সেবিকা,ষ্টাফসহ সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আন্তরিকতায় এখানে আগত রোগীরা তাদের কাংকিত সেবা পেয়ে সবাই খুশী ও সন্তোষ্ট। এটি এখন ১০ জেলায় একটি অনন্য নাম হয়ে দাড়িয়েছে।

করোনার এই মহাদুর্যোগেও তাদের কার্যক্রমের কোন কমতি নেই বরং করোনায় অসহায় ও দুস্থ: প্রায় ১২শত নারী পুরুষকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছে বর্তমানে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ঔষধ দিয়ে আসছে। এই হাসপাতালটির কার্যক্রম চাঁদপুর জেলাসহ ১০টি জেলায় চলে আসছে। এর মধ্যে কুমিল্লা, বি-বাড়িয়া, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদি,নারায়নগঞ্জ, লক্ষীপুর, নোয়াখালী,শরীয়তপুর এবং চট্টগ্রাম জেলার কিছু অংশে এর কার্যক্রম নিয়মিত অত্যন্ত সফলতার সাথে চলছে। এসব জেলার লোকজনের নিকট এই হাসপাতালটি আশির্^বাদ স্বরুপ।

এই হাসপাতালের ১৪ জন চিকিৎসক, ৩৩ জন প্যারামেডিকসহ ১১০ জন নিয়মিত চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন। এ হাসপাতালের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় প্রতি বছর এই হাসপাতালের মাধ্যমে ৭৫ হাজার রোগীকে চিকিৎসা, সাড়ে ৭ হাজার রোগীর চক্ষু অপারেশন, বিভিন্ন ক্যাম্পের মাধ্যমে ৯০ হাজার রোগীকে চিকিৎসা সেবা এবং ৮ হাজার রোগীর চক্ষু অপারেশন করা হচ্ছে। এছাড়া হাসপাতালের শিশু বিভাগের মাধ্যমে ২০ হাজার শিশুকে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়ে থাকে। তাছাড়া লক্ষীপুর, চাঁদপুর, মতলব, হাজীগঞ্জ, রামগঞ্জ ও কমলনগর এই ৬টি প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রতিদিন কয়েকশত রোগী নিয়মিত দেখা হচ্ছে।

প্রতি বছর উল্লেখিত ১০টি জেলায় ভ্রাম্যমান চিকিৎসা ক্যাম্প করা হয়ে থাকে এবং ৮ হাজার রোগীর চক্ষু পরীক্ষা এবং বিনা মূল্যে ঔষধ ও চশমা বিতরণ করা হয়। যাদের অপারেশনের প্রয়োজন তাদের বাছাই করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় এবং হাসপাতালে বিনা মূল্যে তাদের থাকা খাওয়া ব্যবস্থা এবং অপারেশন করা হয়ে থকে। এছাড়াও প্রতিবছর স্কুল শিক্ষার্থীদের চক্ষু পরীক্ষা করার জন্য ১০০টি স্কুল সাইট প্রোগ্রাম করা হয় এবং এই কর্মসুচির আওতায় প্রায় ৪০ হাজার কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের চক্ষু পরীক্ষাসহ বিনা মূল্যে ঔষধ ও চশমা দেয়া হয়ে থাকে। একই সাথে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চক্ষু পরিচর্চা করার জন্য প্রাথমিক ধারনা দেয়ার জন্য শিক্ষক প্রশিক্ষনেরও ব্যবস্থা করা হয়। যাতে কোন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে এসে হঠাৎ চোখে কোন আঘাত পেলে অথবা কোন সমস্যা দেখা দিলে অতিদ্রুত শিক্ষকগণ বিদ্যালয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে পারেন।

মাজহারুল হক বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালটিতে এই করোনা মহামারিতে তাদের কার্যক্রম একটুও কমেনি বরং প্রতি বছরের ন্যায় নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ২০১৯-সালের জুলাই থেকে জুন ২০২০ পর্যন্ত এই হাসপাতলের যে কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে তার একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো।

হাসপাতালে প্রদত্ত সেবা
৭২,০৬৩ জন রোগীকে হাসপাতালের বর্হিঃ বিভাগে বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে। ৬,২৭৩ জন রোগীকে ছানি অপারেশন করা হয়েছে।

বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা শিবির প্রোগ্রাম
৮২,১৩৮ জনকে ফ্রী চিকিৎসা ও ঔষুধ দেয়া হয়েছে, ৫,৯৮৬ রোগীর ফ্রী ছানি অপারেশন করা হয়েছে, ১২,৫১৫ জোড়া চশমা ফ্রী বিতরণ করা হয়েছে

স্কুল সাইট টেস্টিং প্রোগ্রাম
৩৯,৪৬১ ছাত্র ছাত্রীদের চক্ষু পরীক্ষা করা হয়েছে, ১১, ৮৯২ ছাত্র-ছাত্রীকে ফ্রী ঔষধ দেওয়া হয়েছে, ৩১২০ টি চশমা ছাত্রছাত্রীরা বিনামূল্যে দেয়া হয়েছে, ৩০০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে চক্ষু বিষয়ক ০১ (এক) দিনের ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। বছরের এই সময় ১০৭টি স্কুল সাইট টেস্টিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে

বিনামূল্যে উক্ত কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে।
এসব কার্যক্রম পরিচালনার জন্য হাসপাতালের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, কার্যনির্বাহী পরিষদ এবং চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন।

প্রকল্প সহযোগীতা যে সংস্থা আছে
এই হাসপাতালটির কার্যক্রম সুষ্ঠ’ভাবে পরিচালনার জন্য সহযোগী সংস্থা হিসেবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে অঘউঐঊজও ঐওখঋঊ, ঙৎনরং ওহঃবৎহধঃরড়হধষ, ঞযব ঋৎবফ ঐড়ষষড়ংি ঋড়ঁহফধঃরড়হ আমরা চাঁদপুরবাসীর পক্ষ থেকে এসব সংস্থা ও তাদের কর্নধারদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃজ্ঞতা।

Sharing is caring!