আজকের এই বাজেট ঘোষনা অনুষ্ঠানের শুরুতেই সমগ্র দেশ সহ আমাদের এই জেলা চাঁদপুর, হাজীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর এলাকায় মহামারি করোনা আক্রান্ত হয়ে আজ পর্যন্ত যারা মৃত্যু বরণ করেছেন তাদের রুহের মাগফেরাত ও আত্মার শান্তি কামনা করছি সেই সাথে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি…

বৈশ্বিক মহামারি করোনার ভয়াল থাবায় সারা বিশ্ব আজ প্রায় স্থবির, অচল। সারা বিশ্বের অর্থনৈতিক পরাশক্তিধর সকল দেশসমূহ বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে, বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। তারপরও ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি, যার বিচক্ষন নেতৃত্ব ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত এবং মহান আল্লাহর অশেষ রহমত ও মেহেরবানীতে করোনা নামক মহামারি আমাদেরকে বহিঃবিশ্বের তুলনায় ততোটা কাবু করতে পারেনি, আলহামদুলিল্লাহ….

রাষ্ট্রীয় নিয়মানুযায়ী অর্থ বছর শেষ হওয়ার পূর্বে এবং নতুন অর্থ বছর শুরুর পূর্বে বাজেট প্রণয়ন ও ঘোষনা করতে হয়। এই ধারাবাহিকতায় আপনারা অবগত আছেন যে ইতোমধ্যেই আমাদের জাতীয় বাজেট সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান হিসেবে পৌরসভায়ও অর্থবছর ভিত্তিক বাজেট প্রণয়ন করতে হয়। সার্বিক এই করোনা পরিস্থিতির মাঝেও আষাঢ়ের বর্ষণমূখর এই দিনে হাজীগঞ্জ পৌরসভার আজকের বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকবৃন্দ, সুধিমন্ডলী, পৌর পরিষদের সম্মানীত কাউন্সিলরগণ, আমার প্রিয় কর্মকর্তা/কর্মচারীবৃন্দ ও আপনাদের সবাইকে জানাই হাজীগঞ্জ পৌরসভা ও আমার ব্যক্তিগত পক্ষ হতে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।

বর্তমান পৌর পরিষদের কার্যক্রম মহান আল্ল¬াহ্র অশেষ মেহেরবানীতে এবং আপনাদের আন্তরিক সহযোগিতা ও সমর্থনে উন্নয়ন এবং অগ্রগতির দিকে এগিয়ে চলছে, তার’ই ধারাবাহিকতায় হাজীগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান পরিষদের ৫ম বাজেট হিসেবে আপনাদের সামনে চলতি ২০২০-২০২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা উপলক্ষ্যে আজকের এই আয়োজন…

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
আপনারা জানেন যে, হাজীগঞ্জ পৌরসভা চাঁদপুর জেলার অন্যতম প্রাচীন একটি প্রতিষ্ঠান যা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৮৫ সালে আজ থেকে প্রায় ৩৫ বছর পূর্বে। আজ সারা দেশের ৩২৮ টি পৌরসভার মধ্যে আমাদের এই হাজীগঞ্জ পৌরসভা প্রথম সারির একটি প্রথম শ্রেনীর পৌরসভা। এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় পৌরসভাকে সমৃদ্ধ করতে অনেক গুনীজনের শ্রম ও মেধা রয়েছে। আজকের এই ক্ষনে আমি আমার পূর্বসূরী সেই সকল গুনীজনদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।
আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, বিগত ১২ই ফেব্রুয়ারী ২০১৬ খ্রীঃ তারিখে আমি ও আমার পরিষদ দায়িত্বভার গ্রহনের পর সন্মানীত পৌরবাসি ও আপনাদের সহযোগীতায় হাজীগঞ্জ পৌরসভার কর্মকান্ডে নতুন সৃষ্টিশীল ও ইতিবাচক ধারা প্রবর্তনের চেষ্টা করে পৌরবাসিকে সর্বোচ্চ সেবা প্রদান নিশ্চিত করতঃ পৌরসভার সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকান্ড অব্যাহত রাখতে পেরেছি। এজন্য আমি হাজীগঞ্জ পৌরবাসি ও আপনাদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং মহান আল্লাহ্র নিকট শুকরিয়া আদায় করছি। সেই সাথে ভবিষ্যতেও যাতে আপনাদের সেবায় নিজেকে নিবেদিত রাখতে পারি তার জন্য দোয়া কামনা করছি।

সম্মানীত উপস্থিতি,

আমি এবং আমার পরিষদ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় বিশ্বাসী। তাই বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় এবারও শহরের বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের সাথে প্রাক-বাজেট মতবিনিময় ও পরামর্শ করেছি এবং আগামী অর্থবছরের বাজেট যাতে গণমুখী, জনকল্যাণকর ও বাস্তবসম্মত হয় সে ব্যাপারে আমরা গত ২৫/০৬/২০২০ খিঃ তারিখে টাউন লেভেল কো-অর্ডিনেশন কমিটির (টিএলসিসির) সদস্যবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করি এবং সকলের মতামতের ভিত্তিতে খসড়া বাজেট প্রস্তুত করেছি।
সকলের মূল্যবান মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে প্রস্তুতকৃত, খসড়া/প্রস্তাবিত ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেট, ৩০/০৬/২০২০ খ্রীঃ তারিখের বাজেট বিশেষ সভা ও পৌর পরিষদের সাধারন সভায় সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করা হয়েছে, যা হাজীগঞ্জ পৌরসভার ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট হিসেবে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য প্রেরন করা হবে।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ ও সুধীজন,
শুরু থেকেই আমার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল প্রকৃত অর্থে জনগনকে সেবা দেয়া। সে লক্ষ্যে আমি পৌর পরিষদের সদস্য ও পৌরবাসির মতামতের প্রেক্ষিতে পৌরসভার কার্যক্রমকে ঢেলে সাজিয়েছি। মেয়র হিসেবে শুধু চেয়ারে বসে থাকি নাই, আপনাদের তথা পৌরবাসির সেবক হিসেবে সেবা করার চেষ্টা করেছি। নানা সীমাবদ্ধতা ও বিভিন্ন সমস্যা থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন, পৌরবাসি এবং আপনাদের সহযোগিতায় পৌর এলাকার উন্নয়ন অব্যাহত আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে ইনশাআল্লাহ।
প্রিয় কলম সৈনিক বন্ধুগণ আপনারা হলেন সমাজের বিবেক, আমি বিশ্বাস করি মহান রাব্বুল আলামিন সহায় থাকলে, আপনাদের তথা বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সহযোগীতা অব্যাহত থাকলে এবং আপামর জনগনের দোয়া ও আর্শিবাদ থাকলে আমাকে জনগন ও জনগনের সেবা নিশ্চিত করা থেকে কেউ বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ…

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুরা,
আপনারা জানেন হাজীগঞ্জ পৌরসভা চাঁদপুর জেলার অন্যতম ব্যাবসায়ীক প্রানকেন্দ্র। পৌরসভাকে কেন্দ্র করে আধুনিক নগরায়নের ক্রমবর্ধমান প্রসারের ফলে সৃষ্টি হচ্ছে নানাবিধ সমস্যা যার মধ্যে অন্যতম পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা ও জলাবদ্ধতা। সব দিক বিবেচনা করে নতুন বাজেটে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার, স্বাস্থ্য ও পয়ঃপ্রণালী (বর্জ্য ব্যবস্থাপনা) এবং প্রচার (উদ্ধুদ্ধকরন) খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বর্তমান সমাজের অন্যতম সামাজিক সমস্যা মাদকের প্রসার রোধকল্পে যুব সমাজকে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিমনা করতে এ বাজেটে শিক্ষা ও সাংস্কৃতি খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। খেলাধুলা ও ক্রীড়াখাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সরকার কর্তৃক ঘোষীত কোরবানীর পশু জবাই ও ব্যাবস্থাপনা খাতেও বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সাম্প্রতিক করোনা ইস্যু ও যে কোন আকস্মিক পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্যও এ বাজেটে বরাদ্ধ রাখা হয়েছে। মশক নিধন ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা খাতে বিগত বছরের তুলনায় এ বছর বাজেট বৃদ্ধি করে ধরা হয়েছে।

আপনারা জেনে আনন্দিত হবেন পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়ন ও নিয়মিত কার্যক্রমের বাইরেও জনগনের কল্যাণে ব্যতিক্রমধর্মী নানাবিধ কর্মসূচী বাস্তবায়নের পরিকল্পনা আমরা গ্রহন করেছি এবং এ সকল কর্মসূচী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আসন্ন বাজেটে বরাদ্দও রাখা হয়েছে ।

আরো পড়ুন: নতুন করারোপ ছাড়াই হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৬০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

ব্যতিক্রমী কর্মসূচীসমূহের মধ্যে রয়েছে:

¤ জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান।
¤ অসহায়, দুঃস্থ এবং অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি প্রদান।
¤ কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান।
¤ ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে মশক নিধণে সকল ওয়ার্ড পর্যায়ে ক্রাশ প্রোগ্রাম কার্যক্রম বাস্তবায়ন।
¤ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে ঢেলে সাজানো ইত্যাদি।

এসব খাত ছাড়াও হাজীগঞ্জ পৌরসভার ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেটে আরো যে সমস্ত বিষয় গুরুত্ব সহকারে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে সে খাতগুলো হলো-

 শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও জনগণের উপকারার্থে নানাবিধ উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহন।
 নতুন সড়ক বাতি লাইন স্থাপন ও সম্প্রসারন।
 মসজিদ ও মন্দির’র উন্নয়ন।
 বেকার যুবক-যুবতিদের দক্ষ করতে বৃত্তি মূলক প্রশিক্ষন ও আইসিটি বিষয়ক প্রশিক্ষনে সহায়তা ।
 পানির লাইন সম্প্রসারন।
 বন্যা, ঘুর্ণিঝড় ও অগ্নিকান্ড ইত্যাদি ক্ষেত্রে আপদকালীন সাহায্য প্রদান ইত্যাদি।
 করোনা কিংবা এ জাতীয় মহামারি ও আকস্মিক যে কোন দূর্যোগ মোকাবেলার জন্য বরাদ্ধ।

 প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ ও সুধীজন,
আপনারা জানেন হাজীগঞ্জ পৌরসভার-৫ নং ওয়ার্ডে কোন প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই, বিগত বছরের
বাজেট ঘোষনা অনুষ্ঠানে বিষয়টি নিয়ে আপনাদের উপস্থাপনার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সহিত আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত হয় যে, যদি কেউ স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য জায়গা দান করে তবে স্কুল প্রতিষ্ঠার ব্যপারে পৌরসভা সর্বাত্মক সহায়তা করবে। তবে এখন পর্যন্ত জায়গার কোন ব্যবস্থা না হওয়ায় বিষয়টির কোন ইতিবাচক সুরাহা হয়নি।

 প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ ও সুধীজন,

আপনাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, সদ্য বিগত (১৯-২০) অর্থ বছরে আমাদের উল্লেখযোগ্য ভৌত আবকাঠামোগত উন্নয়ন সমূহঃ
# উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের আওতায় ১৩টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে ৮৫.০০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে।
# গুরুত্বপূর্ন নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১৪ কোটি টাকার মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ১৬ টি রাস্তা ও ৫ টি ড্রেন বাস্তবায়ন প্রায় শেষের পথে, যার ব্যয় প্রায় ৪ কোটি ২২.০০ লক্ষ টাকা। দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৮ টি রাস্তা ও ৩ টি ড্রেন প্রকল্পের দরপত্র আহবান করা হয়েছে, যার ব্যয় প্রায় ৭ কোটি ৩৮.০০ লক্ষ টাকা।
# জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাষ্ট ফান্ডের আওতায় ০৩ টি ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে যার ব্যয় ২.০০ কোটি টাকা ।
# রাজস্ব তহবিলের আওতায় ছোট বড় মোট ০৭ টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে ২১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে।
# জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় প্রায় ৩৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সুপেয় পানির সংস্থান নিশ্চিত করতে একটি পাম্প হাউজ মেরামত ও পানির পাইপ লাইন স্থাপন কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

সম্মানীত উপস্থিতি,
এ ছাড়াও আমাদের হাজীগঞ্জ পৌরসভা আগামি ২০২০-২০২১ অর্থবছরে (নতুন) ইউজিআইআইপি-৪ (চতুর্থ নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প) প্রকল্পে অর্ন্তভূক্ত হওয়ার সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে প্রকল্পে অর্ন্তভূক্ত হতে পারলে ইনশাআল্লাহ উক্ত প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৫০-৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া যাবে এবং পৌরবাসীর কল্যাণে উন্নয়ন খাতে ব্যয় করা সম্ভব হবে। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। প্রয়োজন শুধু আপনাদের দোয়া ও সর্বাত্মক সহযোগীতা।

উপস্থিত সাংবাদিক বন্ধুগণ ও সুধীজন,

আমি প্রতিনিয়ত হাজীগঞ্জ পৌরসভার কর্মকান্ডকে পৌরবাসির আরোও কাছাকাছি নিয়ে যেতে কাজ করে যাচ্ছি। পৌর এলাকায় যারা হতদরিদ্র পরিবার, তাদের সন্তানদের শিক্ষা সহায়তা, দরিদ্র অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসায় সহায়তা পৌর তহবিল হতে ও ব্যক্তিগত প্রতিনিয়ত করে আসছি। আর্ত মানবতার সেবায় হাজীগঞ্জ পৌরসভা যাতে একটি অনুসরনীয় পৌরসভা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, সে প্রচেষ্ঠা আমার রয়েছে।
আমি আঃ সঃ মঃ মাহবুব-উল আলম লিপন আপনাদের ভোটে মেয়র নির্বাচিত হয়ে আপনাদের সেবায় নিজেকে সার্বক্ষনিক নিয়োজিত রাখার চেষ্টা করেছি। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অবধি ছূটেছি পৌর এলাকার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। বাস্তবায়ন করেছি মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের রাস্তাঘাট সহ নানাবিধ অবকাঠামোগত উন্নয়ন। দিয়েছি সেবা, পেয়েছি আপনাদের ভালোবাসা, দোয়া। ভবিষ্যতেও আপনাদের এই ভালোবাসা, দোয়া অব্যাহত থাকবে এই প্রত্যাশাই করছি।

প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা ও উপস্থিত সুধীজন,

মহান আল্লাহ্র অশেষ মেহেরবানী এবং আপনাদের সহযোগিতায় আমি, আমার পরিষদের সদস্য তথা কাউন্সিলরদের নিয়ে হাজীগঞ্জ পৌরসভার উন্নয়নের সার্বিক লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। হাজীগঞ্জ পৌরসভার কর্মকান্ডে আপনারা যেভাবে উৎসাহ যুুগিয়ে যাচ্ছেন তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আপনারা পৌরসভার কাজকে জনস্বার্থ বিবেচনা করে সর্বাত্মক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। সে জন্য মেয়র হিসেবে আপনাদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। ভবিষ্যতে আমরা সকলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে হাজীগঞ্জ পৌরসভাকে একটি আধুনিক, সুন্দর ও বাসযোগ্য পৌরসভা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবো-ইনশাআল্লাহ…

সম্মানিত বন্ধুগণ,
করোনা কালিন এই সংকটময় মুহুর্তে আপনাদেরকে কষ্ট দিয়েছি, এখানে উপস্থিত করেছি। সুরক্ষার
কথা মাথায় রেখে সামাজিক / নিরাপদ দুরত্ব রেখে আসন বিন্যাস করেছি। আপনাদের অবগতির জন্য বলছি, এই করোনা মহামারিতে সাধারন ছুটি চলমান অবস্থায় জেলা ত্রান দপ্তর হতে কর্মহীনদের মাঝে বিতরণের জন্য সরকারি খাদ্যশষ্য (চাউল) বরাদ্ধ পেয়েছি ১৮ ধাপে মোট ৮৪ মে.ট. ও নগদ অর্থ পেয়েছি তিন লক্ষ পঁয়ষট্টি হাজার টাকা, যা ইতিমধ্যেই ওয়ার্ড কাউন্সিলরগণের মাধ্যমে কর্মহীন দুস্থ্য, অসহায়,হতদরিদ্র ও মধ্যবিত্তদের তালিকা তৈরি করে বিতরণ সম্পন্ন করা হয়েছে।

হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি আসনের মাননীয় সাংসদ জনাব মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম মহোদয়ের ব্যক্তিগত তহবিল হতে ২ ধাপে হাজীগঞ্জের কর্মহীন দুস্থ্য, অসহায়, হতদরিদ্র ও মধ্যবিত্ত ৬০০ (ছয়শত) পরিবারের মাঝে ত্রান/ উপহার বিতরণ করা হয়েছে। হাজীগঞ্জ পৌরবাসির সেবায় আমি ও আমার পরিষদের

সম্মানীত কাউন্সিলরগণ যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি যার যার অবস্থান থেকে। আমি ও আমার পরিবারের ব্যক্তিগত অর্থায়নে অনুদান/ সহায়তা হিসেবে এ যাবত প্রায় ষোল লক্ষ টাকা বিতরণ করেছি, কাউন্সিলরগণও তাদের ব্যক্তিগত অর্থায়নে ওয়ার্ডভিত্তিক অনুদান/ সহায়তা করে যাচ্ছেন। আমাদের এই পারস্পরিক মানবতাবোধ এবং সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে আশা করছি অচিরেই করোনা নামক এই অদৃশ্য ঘাতক’ কে আমরা জয় করতে পারবো, ইনশাআল্লাহ…

সম্মানিত উপস্থিতি,
আমি হাজীগঞ্জ পৌরসভার সকল পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মূল্যবান পরামর্শের ভিত্তিতে প্রণীত আগামী বছরের বাজেট নতুনভাবে কোন করারোপ ছাড়াই ঘোষণা করলাম। এবার আমি হাজীগঞ্জ পৌরসভার আগামী ২০২০-২০২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের সার সংক্ষেপ আপনাদের সম্মুখে উপস্থাপন করছিঃ ।

আয় ব্যয়:
নিজস্ব খাতে সর্বমোট আয় ২৩,০২,৩১,২৫০/- নিজস্ব খাতে সর্বমোট ব্যয় ২১,৯৪,০০,০০০/-
উন্নয়ন খাতে সর্বমোট আয় ৩৬,৯৭,৭৩,৫০০/- উন্নয়ন খাতে সর্বমোট ব্যয় ৩৪,৯৫,৩০,০০০/-
মোট আয় ৬০,০০,০৪,৭৫০/- মোট ব্যয় ৫৬,৮৯,৩০,০০০/-

সর্বমোট উদৃত্তঃ- ৩,১০,৭৪,৭৫০ /- টাকা।

পরিশেষে, সকল ব্যস্ততার মাঝেও আজকের এই সাংবাদিক ও সুধি সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলার জন্য উপস্থিত সাংবাদিকবৃন্দ ও হাজীগঞ্জের সুধীজনকে আমি আমার পরিষদ ও পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে জানাই গভীর কৃতজ্ঞতা এবং অভিনন্দন। পাশাপাশি আমরা যেন বাজেটের লক্ষ মাত্রা অর্জন করতে এবং পৌরবাসিগণের কাঙ্খিত সকল উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারি, সেজন্য আপনাদের সহযোগীতা কামনা করছি। আমাদের অনিচ্ছাকৃত ভুল ত্রুটিগুলো ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন, এই প্রত্যাশায়। ধন্যবাদ সবাইকে।

Sharing is caring!