শাহরাস্তির রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নে ৩ সন্তানের জননী একই সাথে দু’স্বামীর ঘর করছেন। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড়া চলছে। তবে অভিযোগ হচ্ছে পাল্টি-পাল্টি ধর্ষণ আর প্রতারণার।

জানাযায়, রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য, বেরনাইয়া গ্রামের হাজী বাড়ীর মৃতঃ আইয়ুব আলীর পুত্র শফিকুল ইসলাম (৪৮) ও বেরনাইয়া তালুকদার বাড়ীর হেলাল উদ্দীনের স্ত্রী লাভলী বেগম (৪২) সাথে পরকীয়া প্রেম, অবশেষে বিয়ে নিয়ে লোকমুখে নানামুখী মিশ্র প্রতিক্রিয়া টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছে।

সম্পর্কের বিচ্ছেদ ও একে অপরের কাছ থেকে টাকা লেনদেনের বিষয়ে কাঁদা ছোঁড়াছুঁড়ি অব্যাহত আছে। বিষয়টি নিয়ে একটি পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগেরও প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা যায়।

আরো পড়ুন: দপুরে মসজিদের ইমামের ধর্ষণে অন্তঃস্বত্বা শিক্ষার্থী: বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে পরিবার

সরেজমিন প্রতিবেদনে প্রকাশ, ইউপি সদস্য শফিক বেরনাইয়া তালুকদার বাড়ী সংলগ্ন সড়কের কাজ করতে গিয়ে পরিচয় হয় তারই ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাজুর দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হেলাল উদ্দীনের স্ত্রী ৩ সন্তানের জননী লাভলী বেগমের সাথে। প্রতিনিয়ত আসা যাওয়ার মাঝে, অসম প্রেম, শারীরিক সম্পর্ক, পরবর্তীতে অনৈতিক সম্পর্কের উম্মোচন।

বিষয়টি লোকমুখে জানাজানি হয়েগেলে দুজনে সিদ্ধান্ত নেন কোটম্যারেজ এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ের। দীর্ঘ এক বৎসর যাবৎ বিয়ের নামে প্রেম লীলার পর দুজনের মধ্যে দেনা পাওনার হিসাব নিয়ে শুরু হয় কাঁদা ছোঁড়াছোঁড়ি, সর্ম্পকের বিচ্ছেদ। বিষয়টি এখানেই শেষ নয়, থানা পুলিশ পর্যন্তও গড়িয়েছে।

এ বিষয়ে লাভলী বেগম জানান, আমার বাড়ীর সামনে সড়ক নির্মাণের সুযোগে শফিকের সাথে পরিচয়, আমার স্বামী মাজুর অন্ধ হওয়ায় সরলতার সুযোগে আমার সর্বস্ব লুটে নিয়েছে। আমাকে প্রতারণার জালে ফেলে ব্লাকমেইল করেছে। আমার বড় মেয়ে আমেনা বেগমের বিয়ে তালাক নিয়ে আসা বাবদ ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকার অর্থ সে কৌশলে ২ লক্ষ টাকা ধার নেয়। এছাড়া সে সোলার, আমার স্বামীর প্রতিবন্ধী ভাতার বই, চিকিৎসা বাবদ অর্থ সহায়তা ও রেশন কার্ড দিবে বলে ২৭ হাজার টাকা আত্মসাৎ করে

আরো পড়ুন:শাহরাস্তিতে ইউপি সদস্যের ত্রাণের ফাঁদে সর্বস্ব হারালো প্রতিবন্ধীর স্ত্রী

এছাড়া সে আমার মুল্যবান গাছ, জিনিস পত্র কৌশলে হাতিয়ে নেয়। বর্তমানে সে বিয়ের নাটক সাজিয়ে হাটে-বাজারে আমার বিষয়ে কুৎসা রটাচ্ছে। এ বিষয়ে আমি সঠিক আইনী বিচার না পেলে আত্মহত্যার পথ বেছে নেবো।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম জানান, তার সাথে সম্পর্কের পর কোট ম্যারেজের মাধ্যমে বিয়ে করি। সে আমার বিবাহিত স্ত্রী। সে সুবাধে তার পরিবারের সকল কিছুর দায়িত্ব আমার উপর পড়ে। তার স্বামী মাজুর পরিবার চালাতে অক্ষম হওয়ায়, প্রতিদিনকার নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার আমি ক্রয় করে পাঠিয়েছি। আমার বসত ঘরের জন্য রক্ষিত জমানো ২লক্ষ টাকা দিয়ে তার ছেলে মাঈনুদ্দীনকে কাতার পাঠিয়েছি। যাহা স্টাম্পে স্বাক্ষর করে ধার হিসেবে গ্রহন করে।

সে আমার স্ত্রী সেজে কৌশলে প্রতারণার মাধ্যমে সর্বস্ব লুটে নিয়েছে। সে আমার সমুদয় টাকা ফেরৎ না দিলে তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিবো। আমি আশা করবো সমাজের কোন লোক যেন,কোন প্রতারক মহিলার ফাঁদে না পড়ে সর্বস্ব না হারায়।

Sharing is caring!