চাঁদপুর সদরসারা দেশ

চাঁদপুরে করোনা প্রতিরোধে ১৩ সিদ্ধান্ত, লকডাউন হচ্ছে মাত্র ২টি ওয়ার্ড

নিজস্ব প্রতিনিধি:

চাঁদপুরে করোনা প্রতিরোধে ১৩টি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও মতলব দক্ষিণ উপজেলার ৩ ও ৪নং ওয়ার্ড লকডাউন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান। এ ছাড়াও চাঁদপুর সদরের আইডব্লিউটি সড়কটি সোমবার দুপর ১২টায় লকডাউন করা হবে। এ সড়কে একই বাড়ীতে ৬জন করোনায় আক্রান্ত রয়েছে, এর মধ্যে ১জন মৃত্যুবরণ করেছে।

 চাঁদপুর জেলায় করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমন  ইতোমধ্যে ৪১২জন। যা জেলাবাসিকে ভাবিয়ে তুলছে। এ জেলায় মৃত্যুর সংখ্যা ৩৪ এবং সুস্থতার সংখ্যা ১০৫জন। যার ফলে প্রশাসন করোনাভাইরাস প্রতিরোধকল্পে নতুন করে সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছেন।

রোববার (১৪জুন) চাঁদপুর জেলা করোনা বিষয়ক প্রতিরোধ কমিটির মুলতবি সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।  সভায় শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এবং চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডঃ নূরুল আমিন রুহুল অংশ নেন। জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খানের সভাপ্রধানে অনুষ্ঠিত সভায় চাঁদপুর জেলায় বর্তমানে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাসহ জেলার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এসব সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ সাখাওয়াত উল্লাহ। সিভিল সার্জনের বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপনের পরই সভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

আরো পড়ুন: চাঁদপুর জেলায় নতুন করে আরো ৪৯জনের করোনা পজেটিভ, মোট আক্রান্ত ৪১৪

সিদ্ধান্তগুলো হচ্ছে:
১) করোনা আক্রান্ত রোগীর বাড়ি বহুতল ভবন হলে ঐ ভবন পুরোটা লকডাউন করা হবে, আর সিঙ্গেল ঘর হলে তা ও চারদিকের ৪ টি ঘরসহ লকডাউন করা হবে।

২) করোনা আক্রান্ত রোগীরা যাতে কোনভাবেই আইসোলেশন থেকে বের না হয় এজন্য কঠোর মনিটরিং করা হবে। এজন্য গঠিত কমিটি কাজ করবে। কমিটির সাথে আরো বেশি করে স্বেচ্ছাসেবকদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

৩) কেউ আইসোলেশন ভেঙে বাহির হলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনানুগ শাস্তি দেওয়া হবে।

৪) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাবৃন্দ নিয়মিত ফোন করে তাদের স্বাস্থ্য, চিকিৎসা,খাদ্য ও কোন সামাজিক প্রতিবন্ধকতা আছে কিনা খোঁজ নিবে।

৫) কোন নির্দিষ্ট এলাকার একাধিক ভবনে একাধিক আক্রান্ত লোক থাকলে ঐ নির্দিষ্ট এলাকা/গলি সম্পূর্ণ লকডাউন করা হবে।

৬) সকল গনপরিবহন (বাস ও লঞ্চে ) জ্বর ও অক্সিজেন মাপার যন্ত্র ব্যবহার করে যাত্রীদের পরীক্ষা করে উঠাতে হবে।

৭) সকল মার্কেটের প্রবেশ পথে জ্বর ও অক্সিজেন মাপার যন্ত্র ব্যবহার করে কাষ্টমারদের পরীক্ষা করে প্রবেশ করাতে হবে।

৮) সকল অফসেও জ্বর ও অক্সিজেন পরীক্ষা করে লোকজনকে ঢুকাতে হবে।

৯) মতলব দক্ষিণ উপজেলার পৌর এলাকার কল্লাদি+নবকলস এলাকায় ২০ জন রোগী থাকায় ঐ এলাকাটি রেড জোন ঘোষনা করার সুপারিশ করে জাতীয় কমিটির কাছে প্রেরণ করার জন্য সিভিল সার্জন কে অনুরোধ করা হয়েছে।

১০) কচুয়া উপজেলার ১০নং গোহট ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ১০জন রোগী থাকায় ঐ ওয়ার্ডটিকে কাল স্থানীয়ভাবে লকডাউন করা হবে।

১১) হাসপাতালে কীট, মৃতদেহ বহন করার ব্যাগ ও টেকনিক্যাল লোক বৃদ্ধির জন্য মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী মহোদয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে সুপারিশ করবেন।

১২) আইসোলেশন ওয়ার্ড হিসেবে চক্ষু হাসপাতাল ও ডায়বেটিকস হাসপাতাল কে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত হয়।

১৩) প্রয়োজনে বন্ধ থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবনকে আইসোলেশন ইউনিট হিসেবে ব্যবহার করা যাবে মর্মে মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী মহোদয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

সভায় সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ, জেলা পর্যায়ের শীর্ষকর্মকর্তাবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

চাঁদপুর জেলায় রবিবার কোন নতুন কোভিড-১৯ এর তথ্য না আসায় এজেলায় আক্রান্ত, মৃত্যু ও সুস্থ্যের সংখ্যা পূর্বে যা ছিল তাই আছে।

অর্থাৎ চাঁদপুর জেলায় (১৪ জুন) পর্যন্ত  করোনায় আক্রান্ত রোগী সংখ্যা ৪১২ (চাঁদপুর সদরে ১৫৭, মতলব উত্তর ১৯, ফরিদগঞ্জ ৪৯, হাইমচরে ২৫, হাজীগঞ্জ ৪০, কুচয়া ২৮, মতলব দক্ষিণ ৩৮জন)

জেলায় এই পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে সুস্থ্য হয়েছেন ১০৫জন ।

জেলায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৩৪জন (চাঁদপুর সদর ১১, ফরিদগঞ্জ ৪, হাজীগঞ্জ ৯, শাহরাস্তি ৩, কচুয়া ৪, মতলব উত্তর ২ ও মতলব দক্ষিণ উপজেলায় ১জন)।

Sharing is caring!

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
shares
Close