অন্যান্যশিক্ষা

মুসলমানের বৈশিষ্ট্য

আল্লাহ্‌ তাআলা সবকিছু সৃষ্টি করেছেন একটি মূল থেকে। এরশাদ হচ্ছে—
يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّأَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللهَِّ أَتْقَاكُمْ إِنَّ اللهََّ عَلِيمٌ خَبِيرٌ

‘হে লোকসকল ! আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী হতে সৃষ্টি করেছি, পরে তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি বিভিনড়ব জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পার। তোমাদের মাঝে যে অধিক মুত্তাকী সে- ই আল্লাহ্‌র নিকট অধিক সম্মানিত। আল্লাহ্‌ তাআলা সবকিছু জানেন এবং সবকিছুর খবর রাখেন।১

রসুল(সঃ) মক্কা বিজয়ে ঘোষণা করে বলেন, হে কোরাইশ সম্প্রদায় ! আল্লাহ্‌ তাআলা জাহেলী অহমিকা ও বাপ-দাদার বড়াই মিটিয়ে দিয়েছেন। সকল মানুষ আদম সন্তান, আর আদম মাটির সৃষ্টি। আল্লাহ্‌ তাআলা মানুষ সৃষ্টি করে তাঁকে চেনার মত যোগ্যতা দিয়েছেন। সাথে সাথে তিনি রব ও উপাস্য হওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট দলিল-প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন, যেগুলো মানুষের বিবেক, অনুভূতি ও আত্মাকে সম্বোধন করে।

মানুষকে তাঁর পরিচয় লাভ না করার কারণে শাস্তি প্রদানের জন্যে এতটুকুর উপরই ক্ষান্ত হননি ; বরং রাসূল প্রেরণ করে কিতাব নাযিল করেছেন, যাতে মানব প্রকৃতিকে সম্বোধন করে সঠিক ধারণার বীজ বপন করা যায়। এ বিষয়ে প্রচুর আয়াত রয়েছে। এরশাদ হচ্ছে—
فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا فِطْرَةَ اللهَِّ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لَا تَبْدِيلَ لخَِلْقِ اللهَِّ ذَلِكَ
الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ ﴿ ٣٠ ﴾ مُنِيبِينَ إِلَيْهِ وَاتَّقُوهُ وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ
(٣١− وَلَا تَكُونُوا مِنَ المُْشْرِكِينَ ﴿ ٣١ ﴾.(الروم: ٣٠

তুমি একনিষ্ঠভাবে নিজেকে দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত কর। আল্লাহ্‌ তাআলার প্রকৃতির অনুসরণ কর, যে প্রকৃতি অনুযায়ী তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন, আল্লাহ্‌ তাআলার সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই। এটা সহজ-সরল দ্বীন, কিন্তু অধম মানুষ জানে না। বিশুদ্ধ চিত্তে তার অভিমুখী হয়ে তাকে ভয় কর, তোমরা নামায কায়েম
কর, এবং মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।২ ১ হুজুরাত : ১৩
২ সূর আর রূম : ৩০-৩১

আল্লাহ্‌ তাআলা মানুষের নিকট এরকমই চেয়েছেন। কিন্তু মানুষ সংকীর্ণ বিবেক ও কুপ্রবৃত্তির কারণে এদিক-সেদিক ছুটোছুটি করে, বিভ্রান্ত হয়ে নানা পথ ও পন্থা অবলম্বন করে। আল্লাহ্‌ তাআলা মানুষকে আকল-বুদ্ধি-বিবেক ও আত্মা দিয়েছেন। যে ব্যক্তি এক দিককে অপরটির উপর প্রাধান্য দেবে, সে সঠিক রাস্তাথেকে সরে যাবে।

Sharing is caring!

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
shares
Close