শরীফুল ইসলাম:

চাঁদপুরে আপনার পাশে প্রস্তুত আছে কিউ আর সি। (কুইক রেসপন্স ডিউরিং ক্রাইসিস)। তরুন প্রজন্ম কিভাবে একটি সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হতে পারে তা দেখিয়ে দিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি স্থানীয় জেলা আ’লীগ নেতা ও চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান জুয়েলের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত কিউ আর সি। চাঁদপুরে করোনা সংকটের সূচনালগ্নে জিল্লুর রহমান জুয়েল এক ঝাক তরুনকে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করে কিউ আর সি। উদ্দেশ্য এ সংকট কালে চাঁদপুর পৌরসভার মানুষের যেকোন সংকটে পাশে দাড়ানো। এটিই একমাত্র সেবামূলক প্রতিষ্ঠান যেটি ২৪ ঘন্টা মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

আমি বারবারই একটি কথা বলি মাইন্ডসেট যদি স্থির থাকে , আর কাজ করার যদি লক্ষ্য মহৎ হয় তবে কোন কাজ করা কঠিন কিছু নয়। যা মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনায় জিল্লুর রহমান জুয়েল প্রমান করেছে। কিউ আর সি তে যে সমস্ত তরুনরা কাজ করে তাদের খুব কাছ থেকে দেখেছি কিভাবে তারা নিজের জীবনের ঝুকি নিয়ে প্রতিনিয়ত মানুষের কাজ করেছে।

করোনা ভাইরাসের কারণে চাঁদপুর পৌরবাসী এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সেই ঝুঁকি মোকাবেলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ও শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপির দিক নির্দেশনায় কাজ করে যাচ্ছে কিউআরসি। সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে দোকানপাট, সরকারি-বেসরকারি অফিস, স্কুল-কলেজ বন্ধ রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় কিউআরসি টিম পৌরবাসীর সেবায় সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে।

সংগঠনের প্রায় অর্ধশতাধিক সেবাকর্মী ৩০টি মোটরসাইকেলযোগে প্রতিদিন চাঁদপুর শহরসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে নির্ধারিত হটলাইনের কল অনুযায়ী সেবা কর্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। এ উদ্দোমী তরুনদের দেখলে সত্যিই মনে আশা জাগে। এ তরুনরা সবাই ছাত্রলীগ কর্মী। এদের অনেককেই আমি চিনি যারা অত্যন্ত সৎ এবং পরিশ্রমি। ২৫শে মার্চ থেকে তারা যে সেবাগুলো এ পর্যন্ত দিয়ে যাচ্ছে সেগুলোর দিকে একটু আলোকপাত করি।

১। মানুষকে সচেতন করা: কিউআরসি টিমের সদস্যরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে থেকে শহরের বিভিন্ন মোড়ে মানুষজনকে সচেতন করে যাচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেয়া ৩২ টি নির্দেশনা মানার জন্য শহরের মানুষগুলোকে অনুরোধ করে যাচ্ছে।

২। বাজার ঘরে পৌঁছে দেয়া : লকডাউনের সময় যখন মানুষ ঘরে অবস্থান করছিল তখন হটলাইনে কল দিলেই মানুষের চাহিদামত বাজার পৌঁছে দেয়া হয়েছে বাড়ীতে।

৩। চিকিৎসা সেবা দান : হটলাইনে সংগঠনটির কর্মীরা কল পেলেই ডাক্তার নিয়ে হাজির হয়েছে বাড়ীতে এবং টেলিফোনের মাধ্যমে সিবা নিশ্চিত করেছে। পৌঁছে দিচ্ছে প্রয়োজনীয় ঔষধ। রাত-দিন যখনই ফোন পাচ্ছেন তাৎক্ষণিক ছুটে গিয়ে রোগীর উদ্দেশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে তারা। তিন শিফটে ২৮ চিকিৎসক স্বাস্থ্যসেবার পরামর্শ দিচ্ছেন।

৪। লকডাউনে নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণি এবং অসহায়দের ত্রান পৌঁছে দেয়া হয়েছে যারযার চাহিদা মত। মধ্যবিত্ত শ্রেণির যারা চক্ষুলজ্জায় কাউকে কিছু বলতে পারছেনা তখন তাদের খোজে নামে কিউ আর সি। খুজে খুজে লোকচক্ষুর অন্তরালে রাতে তাদের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে উপহার সামগ্রী।

৪। বিনামূল্যে জরুরী সামগ্রী বিতরণ : শহরের মোরে মোরে মাস্ক , হ্যান্ড সেনিটাইজার , গ্লবস বিতরণ করা হয়েছে যাদের এগুলো কেনার সক্ষমতা নেই তাদের মাঝে। চাঁদপুর পৌর এলাকার মধ্যে অবস্থিত যারা ওষুধ সংগ্রহ করতে পারছেন না, তাদের বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থাসহ অসুস্থ রোগীদের জন্য জরুরি পরিবহন ব্যবস্থা দেয়া হচ্ছে।

৫। করোনা আক্রান্ত হয়ে কোন রোগী মারা গেলে তারও দাফনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রস্তুত কিউআরসি টিম। মৃতদেহের জানাজা থেকে দাফন পর্যন্ত সকল কাজ করছে কিউ আর সি। শুধু তাই না হিন্দু ধর্মাবলম্বী কেউ মারা গেলেও একই কাজ করছে কিউ আর সি।

৬। করোনায় ঝুঁকি এড়াতে যারা ঘরে আছেন তাদের প্রয়োজন মতো মোবাইল লোড , বিকাশ , প্রি-পেইড মিটারে লোডসহ বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করে যাচ্ছে কিউআরসি টিম।

৭। শহরে মশার উপদ্রপ বেড়ে গেলে নিজেদের উদ্যোগে মেশিন এবং ঔষধ কিনে মশা নিধন কার্যক্রম শুরু করেছে কিউ আর সি।

এ টীমটি এখন পর্যন্ত ১৫টি ওয়ার্ডে ৮ হাজার ৫০টি পরিবারকে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে। সেখানে উপকরণ ছিলো: চাল, ডাল, তেল, আলু, পেয়াজ, ময়দা, লবন। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১১শ’ ৪০ পরিবারকে চাল, ডাল, তেল, চিনি, সেমাই, দুধ, পেয়াজ, লবন, আলু, পোলাউ চালসহ খাদ্য সামগ্রী দেয়া হয়। মোট ৯ হাজার ১শ’ ৯০ জন খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। শুধু তাই নয়, জরুরি আরো ছয়টি সেবা দেয়া হয় কিউআরসি থেকে। গত ২৮ মে পর্যন্ত হট লাইন নাম্বারে কল দিয়ে ডাক্তারি পরামর্শ গ্রহণ করে ৩৩৪০ জন, ১ হাজার ৭শ’ ৫০ জনকে জরুরি ঔষধ সেবা, ১ হাজার ৩শ’ জনকে জরুরি পরিবহন সেবা, ৬শ’ ৭৬ জনের বাড়িতে বিনা পারিশ্রমিকে বাজার পৌঁছে দেয়া, ৩শ’ ১০ জন রোগীকে জরুরিভিত্তিতে হাসপাতালে পৌঁছে দেয়া এবং ৩শ’ ২৫ জনের বাসায় বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটারে লোড সার্ভিস দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনের তরুন কর্মী প্রিয়ভাজন মোঃ মেহেদী হাসান।

গত আড়াই মাস ধরে চাঁদপুর পৌর এলাকায় চলা এই কার্যক্রম জেলা সদরের সব মহলে প্রশংসিত হচ্ছে ও ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। ২৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সেবামূলক সংগঠন হিসেবে সার্বক্ষণিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কিউআরসি বাংলাদেশে প্রথম। শুধু তাই নয়, নিজের মোবাইল নাম্বারটি উন্মুক্ত করে দেন এ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল। যতজনই মোবাইল নাম্বারে কল দিয়েছেন প্রত্যেকেই খুবই দ্রুত সেবা পেয়েছেন। কিউআরসি টিম ছাড়াও অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েলের উদ্যোগে প্রায় ৭ হাজার লোকের ঘরে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

সেবা করার মানসিকতা সবার থাকে না। অনেক বিত্তবান আছেন , অর্থ বিত্তের অভাব নেই কিন্তু কজন এ সংকটকালে মানুষের পাশে দাড়িয়েছে ? ঐ যে প্রথমেই বলেছিলম মাইন্ডসেট ঠিক থাকলে সব অসাধ্য সাধন করা যায় । যা করে দেখালেন কিউ আর সি এর প্রতিষ্ঠাতা জিল্লুর রহমান জুয়েল এবং তার কর্মীবাহিনী। শুভ কামনা জুয়েলের জন্য, শুভ কামনা রানা জহির সহ সকল কর্মীদের। পুরাণবাজার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার এর ফেসবুক থেকে নেয়া।

Sharing is caring!