“কিছুটা হুমকি থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবজাতির প্রভূত উপকার সাধন করতে পারে এবং অবসান ঘটাতে পারে দারিদ্রতা ও দুর্যোগের” – স্টিফেন হকিং (পদার্থ বিজ্ঞানী, ১৯৪২-২০১৮)। পৃথিবী এখন এমন এক প্রযুক্তির দোরগোড়ায় যার কল্যাণে একদিন হয়তো বিশ্ব পরিচালিত হবে স্বয়ংক্রিয় উপায়ে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি এর কম্পিউটার বিজ্ঞানী জন ম্যাকার্থি ১৯৫৫ সালে এই প্রযুক্তিটির নাম দিয়েছেন আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম  বুদ্ধিমত্তা। কম্পিউটার কিভাবে মানুষের মত চিন্তা করবে, কিভাবে অসম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে পূর্ণ সিদ্ধান্তে পৌঁছবে, কিভাবে বিচক্ষণতার সহিত পরিকল্পা প্রণয়ন করবে ইত্যাদি বিষয়গুলোর জন্যই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপর গবেষণা করা হচ্ছে।

ই-প্রযুক্তিটির মূল লক্ষ্য হচ্ছে কম্পিউটার বা মেশিনকে মানুষের মতো জ্ঞান ও চিন্তা করার ক্ষমতা দান করা। তবে আমাদেরকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ইতিবাচক ব্যবহারই পৃথিবীতে সৃষ্টি করবে চতুর্থ বিপ্লবের যা ভবিষ্যৎ পৃথিবীকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি?
ইন্টেলিজেন্স বা বুদ্ধিমত্তা শব্দটি হলো কতকগুলো বিশেষ গুণের সমষ্টিগত রূপ। যেমন– কোনো নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ধারণা করতে পারা, সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেয়া, যেকোনো বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করে অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগাতে পারা, ভাষা বুঝতে পারা- এসবই বুদ্ধিমত্তার অংশ। এই বুদ্ধিমত্তা বা ইন্টেলিজেন্স এর আগে আর্টিফিশিয়াল শব্দটি তখনই বসানো যায় যখন এ গুণগুলোকে কোনো সিস্টেম এর মাঝে সিমুলেট করা সম্ভব হয়। অর্থাৎ, মানুষের চিন্তা ভাবনার বা বুদ্ধিমত্তার পদ্ধতিকে কৃত্রিম উপায়ে প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্র বা কম্পিউটারের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স।    

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ইতিবাচক ব্যবহার
বিষয় বিবেচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিজ্ঞানের নবীনতম একটি শাখা। মানুষ অনেক সময় সীমিত জ্ঞান, ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি ও অদক্ষতার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত গ্রহণে এ ধরণের দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠা সম্ভব। ফলে সিদ্ধান্ত সঠিক ও কার্যকর হয় এবং ঝুঁকির পরিমাণ কমে আসে। তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ধীরে ধীরে বিশ্বব্যাপী অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। মানুষের কণ্ঠ সনাক্তকরণ থেকে শুরু করে তথ্য সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ, স্পিচ ট্রান্সলেশন, ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস এর সূক্ষ্ম ত্রুটি শনাক্তকরণ, প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদ খুঁজে বের করা, ক্ষতিকর বিস্ফোরক শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করা সহ অনেক জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ খুব সহজে এবং দ্রুততম সময়ে সম্পাদন করা যাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগের মাধ্যমে। সুতরাং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঠিক ও ইতিবাচক ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনকে করতে পারি আরো সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময়। বর্তমানে বিশ্বের উন্নত দেশ সমূহ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে প্রভূত সাফল্য লাভ করেছে।

নিম্নে উল্লেখযোগ্য কিছু ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ইতিবাচক ব্যবহারের উদাহরণ দেয়া হলোঃ

কৃষিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
নির্ভুল কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে ভোক্তাপর্যায়ে কৃষি পণ্যের বিপণন ও ব্যবহার করা পর্যন্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সামগ্রিক কৃষি ব্যবস্থাকে সহজ করে দিয়েছে। ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরাম (WEF) এর মতে- দ্রুত আধুনিক কৃষি প্রবৃদ্ধি (Smart Agriculture Growth) এর পথে এগিয়ে যাওয়ার এটাই উপযুক্ত সময়। তাই কৃষি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর বিকল্প নেই। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, ২০২০ সাল নাগাদ বিশ্বব্যাপী কৃষি খাতে সাড়ে সাত কোটি আধুনিক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ডিভাইস ব্যবহার করা হবে। ২০৫০ সাল নাগাদ এসব ডিভাইস দৈনিক ৪১ লাখ কৃষি বিষয়ক নতুন তথ্য সরবরাহ করবে।

সম্প্রতি নিউইয়র্কের একদল গবেষক এমন একটি কৃত্রিম স্নায়বিক নেটওয়ার্ক উদ্ভাবন করেছেন যার মাধ্যমে কাসাভা (এক প্রকারের আলু) পাতায় খয়েরি দাগ হওয়ার রোগ শনাক্ত করা সম্ভব। উদ্ভাবিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এ রোগের ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত শনাক্ত করতে সফল হয়েছে গবেষক দলটি। তাছাড়া জমিতে সেচ দেওয়া, কীটনাশক বা সার ছিটানো সহ নানা কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হচ্ছে। কৃষিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের নানা উদ্যোগের মাধ্যমে উন্নত দেশগুলোয় উৎপাদনকারীদের লাখ ডলারের ব্যায় কমে আসবে এবং প্রায় ১৩০ কোটি টন কৃষিপণ্য অপচয় হওয়া থেকে রক্ষা পাবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে, যা বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান মানুষের পুষ্টিচাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।

বাণিজ্যিক উন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে চাল-ডাল কেনা থেকে শুরু করে পুঁজি বাজারের খোজ-খবর সবখানেই কম্পিউটানির্ভর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে নতুন মাত্রা দেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, এতে কোনো সন্দেহ নেই। ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ন্ত্রণ, অনলাইনে পণ্য কেনাবেচা ইত্যাদি কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ডাটা সুবিন্যস্ত ও ম্যানেজ করার কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ করা হচ্ছে। স্মার্ট কার্ড ভিত্তিক ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্বারা জালিয়াতি নির্ণয় করা সম্ভব হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন চ্যাটবট রোবটের দ্বারা ব্যাংকের কাস্টমার কেয়ার সার্ভিস এর সেবা দ্রুততম সময়ে পাওয়া যাচ্ছে। এতে করে ব্যাংকের কার্যক্রমের গতিশীলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ক্রেতা বা গ্রাহককে আকৃষ্ট করার জন্যে বিক্রয়কর্মী হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবট। যার মাধ্যমে ব্যবসায়িকভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব হচ্ছে।   

স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
স্বাস্থ্যক্ষেত্রে ইতিমধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ শুরু হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির দুনিয়ার একাধিক সংস্থা চিকিৎসাবিজ্ঞানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ সংক্রান্ত গবেষণায় যুক্ত হয়েছে। মরণব্যাধি ক্যান্সার এর গবেষণায় প্রয়োগ করা হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন সুপার কম্পিউটার। জটিল অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন রোবটের ব্যবহার এখন আর অবাক করার মতো ঘটনা নয়। সরাসরি সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে সমস্যা থাকলে আইভিএফ পদ্ধতির প্রয়োগ এখন অত্যন্ত জনপ্রিয়।

এই আইভিএফের ক্ষেত্রে সামান্য ত্রুটি বিচ্যুতি এড়াতে সঠিক ডিম্বাণু-শুক্রাণু বাছাই করে দিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। চোখের রেটিনার ছবি স্ক্যান করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগে তা থেকে হৃদযন্ত্রের আসন্ন গোলমাল সম্পর্কে আগেই সতর্ক করে দেয়া যাচ্ছে রোগীকে। এছাড়াও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এক জনপ্রিয় প্রয়োগ হলো রেডিও সার্জারি। আশেপাশের টিস্যুর ক্ষতিসাধন না করে টিউমার অপারেশনে রেডিও সার্জারি সফলভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশ্ববিখ্যাত ফোর্বস ম্যাগাজিন জানিয়েছে, আগামী দশ বছরে চিকিৎসা পরিসেবা ও চিকিৎসা পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে আমূল বদল এনে দেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।

সাইবার নিরাপত্তায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
সম্প্রতি অনলাইনে নিরাপত্তা প্রদানের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যাপক ব্যবহার লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

মাইক্রোসফট, ফেসবুক, গুগলের মতো প্রযুক্তিবিশ্বে নেতৃত্বদানকারী সংস্থাগুলো তাদের নিজস্ব ও
ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার জন্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিচ্ছে। জিমেইল ব্যবহারকারীদের অনেকে বর্তমানে স্প্যাম মেইল বা ভুয়া মেইলের মাধ্যমে সাইবার হামলার স্বীকার হচ্ছেন। আর তাই ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা প্রদানের জন্যে স্প্যাম মেইল শনাক্ত করতে পারে এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিতে যাচ্ছে গুগল। এটি ব্যবহারকারীদের মেইলে আসা বার্তা গুলো যাচাই করবে এবং স্প্যাম মেইল হলে ব্যবহারকারীকে

সতর্কবার্তা দেখাবে। ইদানীং ফেসবুকে নানা আজগুবি খবর ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, সন্ত্রাসবাদ ও উস্কানিমূলক পোস্ট দ্বারা মানুষকে ভুল পথে ঠেলে দেয়া হচ্ছে এবং অপ্রীতিকর ছবি বা ভিডিও পোস্ট করে হয়রানি করা হচ্ছে। এধরণের কার্যক্রম বন্ধের জন্যে ফেসবুক কতৃপক্ষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নেয়ার পরিকল্পনা করছে। সম্প্রতি মাইক্রোসফটের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি “মেশিন ট্রান্সলেটর” ভাষা অনুবাদের ক্ষেত্রে মানুষের সমান নির্ভুল দক্ষতা অর্জন করেছে।

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
যানচলাচল নিয়ন্ত্রণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এখন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বর্তমানে সড়ক দুর্ঘটনা যে হারে বেড়ে গেছে তাতে এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে কার্যকর অবদান রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
সড়ক, আকাশ, রেল এবং জলপথে চলাচলকারী যানবাহনের পরিচালনায় এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হচ্ছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে প্রতিটি যানচালক গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। আজকাল সড়ক যানচালকদের সাধারণ চালনা কৌশল থেকে শুরু করে জটিল কৌশলগুলোও রপ্ত করানো সম্ভব হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে। উন্নত দেশগুলোতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা তীব্র যানজটে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্যে কম্পিউটারনির্ভর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছে।

বিশ্বের নামী এয়ারপোর্ট গুলোতে প্রতিদিন শত শত বিমান ওঠানামা তদারকির জন্যে এয়ারপোর্ট  কর্তৃপক্ষকে সাহায্য নিতে হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার। তাছাড়া উন্নত দেশগুলোতে চালকবিহীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন গাড়ির ব্যবহার এখন আর নতুন কিছু নয়। এধরণের চালকবিহীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন গাড়ি সাধারণ চালকের চেয়েও সুশৃঙ্খলভাবে ট্রাফিক আইন মেনে চলে যাত্রীকে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দিতে পারে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অত্যধিক ব্যবহারের প্রভাব

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ইতিবাচক ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে আমরা যেমন উপকৃত হতে পারি তেমনি অতিমাত্রায় এর ব্যবহার আমাদের জন্যে ডেকে আনতে পারে অভিশাপ। অতিমাত্রায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের কারণে একদিন মানুষ যন্ত্রনির্ভর হয়ে পড়বে। ফলে ভবিষ্যতের শিল্পকারখানা গুলোতে হয়তো সারি সারি শ্রমিকের বদলে দেখা যাবে কয়েকটি রোবট, চাকরি যাবে কোটি কোটি মানুষের। এতেকরে বিশ্বব্যাপী দেখা দেবে ভয়াবহ কর্মসঙ্কট ও বেকারত্বের। এছাড়াও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হ্যাকারদের হাতে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে ভয়াবহ সাইবার হামলার ইঙ্গিত দেয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অত্যধিক ব্যবহারের কারণে মানুষের নিজ কর্মক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। ফলে একদিন হয়তো রোবট মানুষের চেয়ে বেশি কর্মক্ষম হয়ে ঊঠবে, যা ভবিষ্যৎ পৃথিবীর জন্যে হুমকিস্বরূপ।

সুতরাং, বর্তমানে আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা। এটি ব্যবহারের সুফল যেন মুষ্টিমেয় কিছু লোকের হাতে না থাকে এবং এর অতিমাত্রায় ব্যবহার যাতে এর সুফল সমূহকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে না পারে তার জন্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে বিশ্বব্যাপী নীতিমালা প্রণয়ন করা যেতে পারে।

হলিউডের “টার্মিনেটর” বা বলিউডের “রোবট” এর মতো বিভিন্ন মুভিতে মানুষের সাথে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন রোবটের যুদ্ধ দেখে আমাদের অনেকেরই হয়তো ধারণা যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভবিষ্যৎ পৃথিবীর জন্যে অভিশাপ ডেকে আনবে। কিন্তু সিনেমার গল্প ও বাস্তব জীবন এক নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ইতিবাচক ও সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা এমন অনেক কিছুই করতে পারি যা হয়তো কখনো কল্পনাই করতে পারিনি। তবে তার জন্যে প্রথমেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ইতিবাচক ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে হবে এবং এই প্রযুক্তির ইতিবাচক দিকগুলো মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অত্যধিক ব্যবহার যেন ভবিষ্যতে আমাদের জন্যে ক্ষতিকর হয়ে না দাড়ায় সেদিকে আমাদের সকলকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

লেখকঃ
শিক্ষার্থী,
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়,
ত্রিশাল, ময়মনসিংহ।
ফেইসবুকঃ www.facebook.com/arif.6699

Sharing is caring!