সরকারের লক্ষমাত্রা অর্জন 
চাঁদপুরে মৌলিক স্বাক্ষরতা প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ!  সরকারেরর কোটি টাকার প্রকল্প ভেস্তে যাচ্ছে

নিজস্ব প্রতিনিধি॥
বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর আওতাধীন মৌলিক স্বাক্ষরতা প্রকল্প (৬৪ জেলা) এর চাঁদপুর সদরে ৩শ’ শিখন কেন্দ্র ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়াগেছে। দেশের সব শ্রেণী পেশার মানুষকে মৌলিক শিক্ষার আওতায় আনার জন্য সরকারের মহতী উদ্যোগ থাকলেও প্রকল্প পরিচালনা প্রতিষ্ঠান স্বেচ্ছসেবী সংগঠন ‘সমাহার’ কোন ধরনের নিয়মনীতি তোয়াক্কা করছে না। কাগজে থাকলেও কাজে নেই এই প্রকল্পের বাস্তবচিত্র। যার ফলে এ প্রকল্পে সরকারের লক্ষ মাত্রা ও কোটি টাকার প্রকল্পটির কার্যক্রম ভেস্তে যাচেছ। এ ব্যাপারে সরোজমিনের নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত করলে এ প্রকৃত অনিয়ম ও দুর্নীতি বেড়িয়ে আসবে বলে সচেতন মহরের দাবী।

সরেজমিন ও শিখন কেন্দ্রের দায়িত্বরত সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ করে জানাগেছে, এসব বিদ্যালয়ে ১৫ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে নিরক্ষর লোকদের শিক্ষার্থী হিসেবে পাঠদান করা এবং প্রত্যেক কেন্দ্রে শিক্ষার্থী থাকবে দুই শিফটে ৩০ জন করে ৬০জন। শিক্ষকদের যোগ্যতা নূন্যতম এস.এস.সি থাকার কথা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত শিক্ষা উপকরণ দিতে হবে।

কিন্তু সরেজমিন শহরের গুয়াখোলা, কদমতলা, ও ষোলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ছোট সুন্দর গ্রামের বাইনের বাড়ী কেন্দ্র, পাঁচবাড়িয়া করাতি বাড়ী কেন্দ্র, দেলান বাড়ী কেন্দ্র গিয়ে দেখাগেছে কেন্দ্রগুলোতে শিক্ষক নেই। আবার শিক্ষক থাকলেও পঞ্চম শ্রেনী পাস শিক্ষক। অনেক কেন্দ্রে শিক্ষার্থী নেই। কোন কেন্দ্রে শিক্ষার্থী থাকলেও তারা অন্য বিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, সরকারি এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মেয়াদ ৬মাস। চাঁদপুর সদরের ৩শ’ কেন্দ্রের জন্য ব্যয় বরাদ্দ শিক্ষা উপকরণসহ প্রায় ১ কোটি টাকা।

শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য ব্লাক বোর্ড, চক, খাতা, কলম, মাদুর। কেন্দ্রের জন্য বিদ্যুৎ বিল ও ঘরভাড়া প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত। প্রত্যেক শিক্ষক তার সম্মানী হিসেবে পাওয়ার কথা ১হাজার ২শ’ টাকা। কিন্তু কেন্দ্রের দায়িত্ব পাওয়া স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সমাহার’ এসব নিয়ম নীতির কোন কিছুই মানছেন না। শিক্ষকদেরকে প্রতিমাসে সম্মানী দিচ্ছেন ৫ থেকে ৬শ’ টাকা। শিক্ষার্থীরাও উপকরণ নিয়মমত পাচ্ছেন না।

মধুরোড ভাষাবীর এম.এ.ওয়াদুদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লিজা আক্তার জানান, সে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়েন পঞ্চম শ্রেনীতে এবং প্রকেল্পর বিদ্যালয়ে একই সাথে পড়েন।

রামপুর বাইন বাড়ী কেন্দ্রের শিক্ষক ইসমাইল হোসেন জানান, তার কেন্দ্রের ৫ থেকে ৭জন শিক্ষার্থী আসেন। ঈদুল ফিতরের পরে কোন শিক্ষার্থীই নেই।
রামপুর দালানবাড়ী কেন্দ্রের শিক্ষক আল-আমিন জানান, প্রকল্পটি ৬ মাসের মেয়াদ থাকলে ও তিনি এখন পর্যন্ত সম্মানি পেয়েছেন ২ মাসের।
পাচঁবাড়িয়া করাতি বাড়ী কেন্দ্রে গিয়ে দেখাগেছে শিক্ষক নাছিমা আক্তার নেই। ওই বাড়ীর কেন্দ্রের স্থানীয় লোকজন জানান তিনি বেড়াতে গিয়েছেন। এ কেন্দ্র থাকলেও শিক্ষার্থী নাই।

সদর উপজেলা প্রোগ্রাম অফিসার প্রশান্ত সরকার বলেন, আমি এ উপজেলায় নতুন যোগদান করেছি। অনিয়ম সম্পর্কে আমি কোনভাবেই অবগত নই।

জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো সহকারী পরিচালক মো. সাঈদুর রহমান সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তিনি চাঁদপুর ও নারায়নগঞ্জ জেলার দায়িত্বে রয়েছেন। এ কারণে প্রকল্পের সবকিছু দেখা তার পক্ষে সম্ভব হয় না। বিস্তারিত সাক্ষাৎ করলে জানাতে পারবো।

বাস্তবায়ন সংস্থা ‘সমাহার’ এর নির্বাহী পরিচালক মো. আজাদ শেখ এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, প্রোগ্রাম অফিসার ও সহকারী পরিচালক তারাই প্রকল্পের কার্যক্রম দেখার দায়িত্ব। তাদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। মোবাইলে অনিয়মের কথা বলতে অপারগতা স্বীকার করেন। কয়েকদিন পরে ঢাকা থেকে চাঁদপুরে আসলে সরাসরি কথা বলবেন।

মৌলিক স্বাক্ষরতা প্রকল্প (৬৪ জেলা) এর হাইমচর উপজেলায়ও ৩শ’ কেন্দ্র রয়েছে। এই প্রকল্পের ৩শ’ কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ আওয়ার লাইফ (সল)। এই উপজেলার চিত্রও সদর উপজেলার ন্যয়।

 

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares